মেইন ম্যেনু

প্যান্ট, টাই ও কোট পরে ইমামতি করা যাবে কি?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ১৭২৩তম পর্বে মির্জাপুর, টাঙ্গাইল থেকে পোস্টকার্ডে প্যান্ট, টাই ও কোট পরে ইমামতি করা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন আলম। প্রশ্নোত্তরের ভাষান্তর করেছেন সজীব খান।

প্রশ্ন : প্যান্ট, টাই ও কোট পরে ইমামতি করা যাবে কি?

উত্তর : প্রথমত, প্যান্ট পরা ইসলামী শরিয়তের মতে হারাম নয়। প্যান্ট, সেটি যদি এমন হয় যে তা পরে সালাত আদায় করা জায়েজ হয়, তাহলে ইমামতি করা নাজায়েজ হওয়ারকোনো কারণ নেই। আর প্যান্ট পরে সালাত আদায় করা যে জায়েজ, এ মর্মে এ যুগের গবেষকরা প্রায় ঐকমত্যেই ফতোয়া দিয়েছেন। তবে ওলামায়ে কেরামদের বক্তব্য হচ্ছে, সেটি একটু ফাদফাদ (ঢিলেঢালা) হতেহবে, যাতে করে সহজে কেউ নামাজ পড়তে পারেন। তবে শুধু এ যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুস্তাহিত শেখ মোহাম্মাদ ইবনে সালা আল-উথাইমিন (র.) প্যান্ট পরে নামাজ পড়ার বিষয়ে এখতেলাফ (দ্বিমত) করেছেন। এ ছাড়া অধিকাংশ ওলামায়েক প্যান্ট পরা জায়েজ বলেছেন। সুতরাং প্যান্ট পরা যেহেতু জায়েজ, প্যান্ট পরে ইমামতি করাও জায়েজ।

দ্বিতীয়ত, টাইয়ের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। টাই ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে জায়েজ। এটি একটি পোশাক এবং আমাদের ধারণা রয়েছে যে এটি খ্রিস্টানদের ক্রুশের পরিপূরক, সেটির জন্য দলিল প্রয়োজন। কারণ, আন্দাজ বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে যদি কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি ভুল করবেন। হারাম বা হালাল কারোর মনের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। এটা শরিয়তের দলিলের ওপর নির্ভর করে। যেহেতু টাই পরার ক্ষেত্রে আলেমদের কাছে কোনো ধরনের দলিল নেই, তাই তা হারাম পোশাক নয়। শুধু এখানে একটাই ভিত্তি। সে ভিত্তিটা হচ্ছে, এটা আদৌ কোনো ধর্মের সুনির্দিষ্ট পোশাক কি না। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রায়ই ওলামায়েকগণ ঐকমত্য হয়েছেন যে, এটি সুনির্দিষ্ট কোনো ধর্মের পোশাক নয়। অনেকে ধারণা করে থাকেন, টাইটা মূলত খ্রিস্টানদের ক্রুশের পরিপূরক। কিন্তু বাস্তব কথা হচ্ছে, টাইয়ের সঙ্গে ক্রুশের কোনো সম্পর্ক নেই।

তৃতীয়ত, কোট পরাই যাবে। এটি একেবারেই সাধারণ পোশাক। আগের যুগ থেকেই কোট পরার প্রচলন ছিল। কোট ও জুব্বা দুটিই প্রাচীন পোশাক। তাই এগুলো ব্যবহার করা জায়েজ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সুতরাং প্যান্ট, টাই ও কোট পরে সালাত আদায় করা যাবে এবং ইমামতিও করা যাবে।