মেইন ম্যেনু

প্রকাশ্যে হিযবুত তাহরীর লিফলেট বিতরণ!

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : রাজশাহীতে প্রকাশ্যে লিফলেট বিতরণ করেছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মহানগরীর কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড জামে মসজিদের সামনে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের ১০ থেকে ১৫জন সদস্য মুসল্লিদের মাঝে সরকারবিরোধী লিফলেট বিতরণ করে। এ সময় তাদের একজন লিফলেটটি পড়ে শোনায়।

জানা যায়, দুপুরে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা যখন মসজিদ থেকে বের হচ্ছিল, সে সময় ১০ থেকে ১৫জন যুবক সমজিদের প্রধান ফটকে দাঁড়িতে লিফলেট বিতরণ করছে। লিফলেটটি হিযবুত তাহরীর। এ সময় ওই দলের একজন সদস্য লিফলেটটি পড়ে শোনাচ্ছিল। ১০ থেকে ১৫ মিনিট এমন কার্যক্রম শেষে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন তারা।

এরআগে গত জুমার দিন নগরীর উপশহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদেও একইভাবে তারা লিফলেট বিতরণ করেছিল। এ সময় স্থায়ীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী জুমায় নিষিদ্ধ এই সংগঠনের সদস্যরা অন্য কোনো মসজিদে প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‘শেখ হাসিনার যুলুমের শাসন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হিযবুত তাহরীর, উলাই‘য়াহ্ বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে জাতির উদ্দেশ্যে বিশেষ আহ্বান’ শীর্ষক ওই লিফলেটে বর্তমান সরকারের পতনের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

লিফলেটে মোটা দাগে উল্লেখ করা হয়, ‘ হে দেশবাসী! এই যালিম সরকারের পতনের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ুন এবং পৃথিবীর বুকে একটি সম্মানিত ও ক্ষমতাশীল নেতৃস্থানীয় জাতিকে পরিণত হতে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করুন।’

এদিকে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের প্রকাশ্যে কার্যক্রমের কারণে নগরবাসীর মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, নিষিদ্ধ এই সংগঠন এইভাবে প্রকাশ্যে ধারাবাহিকভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। এই ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম বলেন, বিষয়টি জানতাম না। আপনার কাছ থেকে শুনলাম। গ্রেটার রোড বোয়ালিয়া থানার মধ্যে পড়ে। আমি থানাকে বিষয়টি জানিয়ে দিব। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য হিযবুত তাহরীর ইসলামী মতাদর্শ ভিত্তিক রাজনৈতিক দল, যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বাংলাদেশে ২০০১ সাল হতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দলটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “জননিরাপত্তার স্বার্থে”- দলটিকে নিষিদ্ধ করে। পৃথিবীর অন্য অনেকগুলো দেশেও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে দলটি।