মেইন ম্যেনু

প্রাকৃতিক ভূস্বর্গ ভারতের কাশ্মির : পর্ব-৪

প্রকৃতির হৃদয়স্পর্শী অপরূপতায় সজ্জিত প্যাহেলগাম, গুলমার্গ

কাশ্মিরের সুন্দর সাজানো শহর শ্রীনগর থেকে ৯৬কি.মি রাস্তার দূরত্বে অত্যন্ত প্রাকৃতিক নৈসর্গমন্ডিত দর্শনীয় স্থান হলো প্যাহেলগাম। প্যাহেলগাম এতোটাই সুন্দর, হৃদয়ছোয়া ও সাজানো গোছানো এলাকা যে মনে হবে সৃষ্টিকর্তার যেন নিজ তত্ত্বাবধায়নে বা উপস্থিতিতে ওই এলাকার পাহাড়, ঝরনা, গাছ-গাছালী, পাহাড় থেকে বরফ গলা পানিতে পাথরের নদী, স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানি, সবমিলিয়ে সামগ্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশটাই তৈরী করেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে প্যাহেলগাম মিউনিসিপ্যাল সেখানে নতুন করে কোন স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রেখেছে। প্যাহেলগামে লিডার ভ্যালী অমুশমেন্ট পার্কসহ বিভিন্ন পার্ক রয়েছে। রয়েছে ছোট বড় থেকে ফাইভস্টার হোটেল।

প্যাহেলগামের অপরূপ দৃশ্যের খন্ড চিত্র

প্যাহেলগামের অপরূপ দৃশ্যের খন্ড চিত্র

পাহাড়ের কোলে সবুজ ঘাষে লম্বা বাহারী রং-এর অঢেল গাছগাছালীতে, পাহাড় থেকে ঝরে আসা পাথরের নদীতে ঠান্ডা পানির ছোয়া, দূরের পাহাড়ের শীর্ষে সাদা বরফের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য, পরিকল্পিত সুন্দর বাড়িগুলো, সবমিলিয়ে সেখানে অবস্থানকালীন সময়টি যেন জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ পাওয়া।

শ্রীনগর থেকে প্যাহেলগাম যাওয়ার পথে অনেক স্থানে রাস্তার দু’ধারে সুড়ঙ্গের ন্যায় সজ্জিত গাছের কারণে গ্রিন ট্যানেল বলে থাকে স্থানীয়রা।

গুলমার্গ কাশ্মিরের অন্যতম একটি দর্শনীয় ও হিল রিসোর্টস এলাকা। শ্রীনগর থেকে ৫৭ কি.মি. দূরে অবস্থিত ম্যাডো অব ফ্লাউয়ারস বা ফুলের তৃণবহুল ক্ষেত্র খ্যাত গুলমার্গে ভরা শীত মৌসুমে ররফ আচ্ছাদিত পাহাড়ে রফে (ইলেকট্রিক তারে ভাসমান যান যা প্রত্যন্ত পাহাড়ের উপর দিয়ে চলাচল করে) উঠা যায়। রফে করে ৫’শ ও ৩’শ রূপির বিনিময়ে ৮/১০কি.মি. দূরত্বে ভরা শীতকালে বরফের পাহাড়ের উপর দিয়ে দুটি স্থানে যাওয়া যায়।

অপরূপ দৃশ্যের খন্ড চিত্র

অপরূপ দৃশ্যের খন্ড চিত্র

এছাড়া পাহাড় ঘেষা লেক, পার্ক, ঘোড়ার রেচ, গলফসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় বিষয়াদীতে নিজেকে সম্পৃক্ত করা যায়। কথিত আছে, এককালের কাশ্মিরি শাসক ইউসুফ খান চাক ১৫ শতকে এটি ডিসকভারড করে দেবতা শিব গৌরীর নামানুসারে গৌরিমার্গ নামকরণ করেন। পরবর্তীতে মুঘল আমলে প্রাকৃতিক নৈসর্গ মন্ডিত ওই পর্যটন এলাকাটি গুলমার্গ নামকরণ করা হয়।

শ্রীনগর থেকে ৮৪কি.মি. দূরে শ্রীনগর-লাদাখ রোড এলাকায় ম্যাডো অব গোল্ড বা সোনার তৃণবহুল ক্ষেত্র খ্যাত সোনমার্গ অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম দৃশ্যমন্ডিত টুরিস্ট এলাকা। সিনধ (ইডাস) নদী, বরফের নদী যেমন আছে তেমনি আছেও হৃদয়ছোয়া প্রকৃতির সৌন্দর্যতা।

ইয়ুসমার্গ কাশ্মিরের অন্যতম একটি সবুজে ভরা স্থান।

‘অমরনাথ’ নামের ঐতিহাসিক পাহাড়ী এলাকাটি দূর্গম। পাহাড়ি গুহায় দেবতা শিবের নানান নিদর্শনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দৃশ্য এখানে অবলোকন করা যায়। শ্রীনগর থেকে সরাসরি কোন সড়ক যোগাযোগ না থাকায় কয়েকটি স্থান থেকে পায়ে হেটে পাহাড়ে উঠতে হয়। প্যাহেলগাম থেকে চান্দানওয়ারী হয়ে অমরনাথ যাওয়া যায় যদিও তা সম্পূর্ণ গাড়িতে করে নয়।

‘ভৈসনো দেবী’ নামক সনাতন ধর্মীয় ঐতিহাসিক স্থানটি জম্মু থেকে ৪৮কি.মি. দূরে ছোট শহর কাটরা’র ট্রিকুটা পাহাড়ে অবস্থিত। মহাস্মরসতী, মহালক্ষ্মী ও মহাকালী এ তিন মাতার প্রাকৃতিক রক পিনডিয়ান বা ছবি আছে।

গুলমার্গের বিনোদন কেন্দ্রের একাংশ

গুলমার্গের বিনোদন কেন্দ্রের একাংশ

‘শানকারাচার্যা ট্যাম্পেল’টি শ্রীনগর শহর থেকে ১হাজার ফুট উচ্চতায় টাখট্-ই-সুলাইমান পাহাড়ে অবস্থিত। সম্রাট জাহঙ্গীরের সময় এটি তৈরী হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানালেন।

রয়েছে ‘খির ভবানি’ মার্বেল মন্দির যেটা শ্রীনগর থেকে ২৮কি.মি দূরে টুলামুলা গ্রামের পাশে অবস্থিত।

‘সিরাজবাগ টিউলিপ গার্ডেন’টির অপরনাম ইন্দিরা গান্ধী টিউলিপ গার্ডেন যেটা জাবারওয়ান পর্বতে হেটে উঠতে হয়।

সবমিলিয়ে কাশ্মিরের সমগ্র প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো মনে ধরবে না এমন মানুষ বোধ হয় দুনিয়ায় নেই। সেখানকার সামগ্রিক ভূস্বর্গ স্বচোখে অবলোকন করতে হলে নিদেন পক্ষে সপ্তাহ দুয়েক থাকলে ভালো হয় বলে স্থানীয় টুরিস্ট সংশ্লিষ্টরা জানালেন।

চলবে… ৬টি পর্ব…

 

লেখক:
আরিফ মাহমুদ
সম্পাদক
আওয়ার নিউজ বিডি ডটকম

পর্ব-১ : জম্মু থেকে একমাত্র দূর্গম পাহাড়ি পথে রয়েছে আড়াই কি.মি’র জওহার ট্যানেল

পর্ব-২ : শ্রীনগরের ডাল লেক যেমন বিখ্যাত তেমনি ভেড়া-ছাগলের পালও প্রসিদ্ধ

পর্ব-৩ : এশিয়ার বৃহত্তম শ্রীনগর জামে মসজিদ, ঐতিহাসিক নিদর্শন হযরত বাল দরগাহ শরিফ মসজিদ