মেইন ম্যেনু

প্রতিটি ভালো অর্জন আওয়ামী লীগের

বাংলাদেশের প্রতিটি মহৎ এবং শুভ অর্জনে আওয়ামী লীগের সংগ্রামী ও ত্যাগী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে থাকবে। দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করবে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আজ ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৬৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।

বাসস জানায়, বাণীতে প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সংগঠনের অগণিত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে।

তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হককে। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকেও।

ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক এবং সাধারণ মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্বদানের গৌরব অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় চার নেতাসহ পূর্বসূরী নেতা-কর্মীদের অক্লান্ত শ্রম, মেধা ও ত্যাগের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ গণমানুষের এক বিশাল সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর এ ভূখণ্ডে যা কিছু বিশাল অর্জন তা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সঙ্গে এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৫২ -এর ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪ সালের দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৬ -এর ৬ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সবই পরিচালিত হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।

১৯৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি জাতি আওয়ামী লীগের পক্ষে নিরঙ্কুশ রায় দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ এর ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু করে ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা। গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে। গ্রেপ্তারের পূর্বে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন ইপিআর এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠন করে। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে সরকার শপথ গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত সফল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল- স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বাণীতে তিনি বলেন, সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে যখন জাতির পিতা তার স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরের সংগ্রামে ব্যস্ত তখনই ঘাতকরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তাকে সপরিবারে হত্যা করে। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৩ নভেম্বর কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং নির্যাতন আর নিপীড়নের মাধ্যমে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয় জনগণের সংগঠন আওয়ামী লীগকে। কিন্তু এ অপচেষ্টা কখনই সফল হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এই সময়টি ছিল জাতির ইতিহাসে স্বর্ণকাল। বাংলাদেশ পরিণত হয় দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, জাতিগত সংঘাত নিরসন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও উদার গণতন্ত্রের রোল মডেলে।

খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগ সরকারই খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পায়। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কারো মধ্যস্থতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। তিনি বলেন , দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আওয়ামী লীগ পুনরায় ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এ বিজয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগ ও জনগণের ধৈর্য্যের ফসল।

গত সাড়ে ছয় বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ উন্নয়ন, পররাষ্ট্র নীতি ও কৌশলসহ প্রতিটি সেক্টরে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন বাস্তবায়ন করে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক বলে বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি, রিজার্ভ, বিনিয়োগ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে। আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি লড়াইয়ে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে বিজয়ী হয়ে গভীর সমুদ্রে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিপুল জলসম্পদের মালিকানা অর্জন করেছি। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত স্থল সীমানা সমস্যার সমাধান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম সাফল্য।’

আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত করেছে উল্লেখ করে বাণীতে তিনি আরো বলেন, রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্য-সন্ত্রাস, দুর্নীতি-নিরক্ষরতামুক্ত, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিরোধী অপশক্তি এখনও জনগণের এই উন্নয়নকে নস্যাৎ করার অপচেষ্টায় থাকলেও দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এবং সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিবে বলে তিনি বাণীতে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।