মেইন ম্যেনু

প্রতিদিনই আপনি লেট হয়ে যাচ্ছেন? দেখে নিন এর পেছনে দায়ী কারণগুলো

প্রতিদিন বাড়ি ফিরে আপনি ঠিক করেন, কাল আর লেট হবে না। যে কোনো উপায়েই হোক, আপনি হাতে সময় নিয়ে, শান্তমনে বাসা থেকে বের হবেন। এর জন্য আপনি আগে আগেই ঘুমাতে চলে যান, অনেকগুলো অ্যালার্ম সেট করে রাখেন ফোনে, এমনকি কয়েকটা ঘড়িতেও অ্যালার্ম সেট করে রাখেন। কিন্তু শত চেষ্টার পরেও ফলাফল একই, আপনি দেরি করে ফেললেন। কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না? দেখে নিন, ঘরে থাকা এই কারণগুলো কি আপনাকে প্রতিদিন লেট করিয়ে দেবার জন্য দায়ী?

১) আপনার অ্যালার্ম ঘড়িটা যাচ্ছেতাই

ইদানিগ্ন বেশীরভাগ মানুষই ফোনে অ্যালার্ম দেন। কিন্তু ফোনের এই মিষ্টি শব্দে অনেকেরই ঘুম ভাঙ্গে না, অনেকেই আবার অ্যালার্ম অফ করে আবার ঘুমে তলিয়ে যান। এর বদলে আপনি নিয়ে আসুন একটি আসল অ্যালার্ম ঘড়ি। এটা বিছানা থেকে দূরে রাখুন যাতে তা বন্ধ করতে আপনার বিছানা ছাড়তেই হয়।

২) আপনার চাবি, সানগ্লাস, ওয়ালেট ইত্যাদি জায়গামত থাকে না

ঘর অগোছালো থাকলে এই সমস্যাটা দেখা যায়। প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হবার সময়ে এই অবস্থা হয় আপনার। চাবিটা কোথায়? আরে, সানগ্লাস কোথায় রেখেছিলাম কালকে? ওয়ালেটে টাকা নেই- এসব ঘটনা কি আপনার ক্ষেত্রেও ঘটে? তাহলে প্রতিদিন ব্যবহারের এসব জিনিস রাখার একটি নির্দিষ্ট জায়গা বেছে নিন। সুন্দর একটা বাস্কেট, বোল এমনকি সুন্দর করে সাজানো একটা জুতোর বাক্সেও রাখতে পারেন এগুলো। ঘর থেকে বের হবার সময় এগুলো থেকে জিনিসপত্র নিয়ে নেবেন। এরপর দিনের শেষে ঘরে ঢুকে এগুলো জায়গামত রেখে দিবেন।

৩) ঘরের আলোতে আছে গন্ডগোল

রাত ১০টায় আপনার ঘর যেমন অন্ধকার, সকাল ৭টায়ও কি তেমনই অন্ধকার? এই অন্ধকারের জন্যই হয়তো আপনার ঘুম ভাঙতে দেরি হচ্ছে। ভারি পর্দা খুলে ফেলুন। এর বদলে ব্যবহার করুন হালকা পর্দা যা সূর্যের আলো সকাল সকাল ঘরে ঢুকতে দেবে। এটা যে শুধু আপনাকে জাগিয়েই তুলবে তা নয়, বরং আপনার মেজাজটাও সকাল সকাল ভালো করে দেবে।

৪) পোশাক বাছতেই আপনার সময় চলে যায়

সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি ক্লজেটের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চিন্তা করতে থাকেন কী পরে বের হবেন, তাহলে কেটে যাবে অনেকটা সময়। এই সময়টুকু বাঁচাতে আপনি ঘুমাতে যাবার আগেই পোশাক ঠিক করে রাখুন।

৫) বাথরুমে ফোন ব্যবহার

অনেকেই বাথরুমে ফোন নিয়ে যান এবং শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি, যে অনেকে কমোডে বসে বসেই ফোন ব্যবহার করতে থাকেন। এতে কাজ সারা হয়ে গেলেও তারা অনেকক্ষণ বসে থাকেন সেখানেই। এটা যেমন অস্বাস্থ্যকর, তেমনি আপনাকে দেরিও করিয়ে দিচ্ছে। বাথরুম বা টয়লেটে যাবার সময় ফোন ঘরে রেখে যান।

৬) আপনার নাশতার মেনু ঠিক নেই

প্রতিদিন সকালে একটা বড় সময় চলে যায় খাবার তৈরি করতে ও খেতে। আপনি যদি প্রতিদিনই অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করেন কী রান্না করবো, কী খাবো তাহলে তো আপনি লেট হবেনই। আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন কী খাবেন। সে অনুযায়ী বাজার করে রাখুন। ছুটির দিনে বা আগের দিন রাত্রে কিছু খাবার ঠিক করেও রাখতে পারেন, যেমন ওভারনাইট ওটস।

৭) আপনার ঘরে ঘড়ি দেখা যায় না

অনেকের বাড়িতেই এখন ঘড়ির জায়গা নিয়েছে ফোন। ফলে আপনি যদি কিছুক্ষণ ফোন চেক করতে ভুলে যান তাহলে সময়ের কথা আপনার খেয়ালই থাকবে না, আপনি হয়ে যাবেন লেট। এই সমস্যার সমাধানে বাড়ির সব ঘরে রাখুন একটা করে ওয়াল ক্লক। বা রেডি হবার সময়ে যেসব জায়গায় আপনি থাকেন সেখানে রাখুন ঘড়ি। তাহলে সময়ের ব্যাপারে সারাক্ষণ সতর্ক থাকতে পারবেন।

দেখুন তো, কখনো ভেবেছিলেন এসব ছোট ছোট কারণে আপনি লেট হচ্ছেন প্রতিদিন? এবার এসব পরিবর্তন আনুন ঘরে, আর দেখুন আপনি কেমন সময়ানুবর্তী হয়ে পড়ছেন সহজেই।