মেইন ম্যেনু

প্রতিদিন বিকালে পুলিশকে টাকা দেই, বুচ্ছেন!

ঘড়ির কাঁটা ঠিক ১২ টার ঘরে। এ্যাসাইমেন্টের উদ্দেশ্যে অফিস থেকে বের হয়েছি। মাথর উপর সূর্য দাড়িয়ে আছে। প্রচন্ড গরম। বৃষ্টির মৌসুম হওয়ায় ব্যাগে ছাতা ছিল। প্রচন্ড রৌদের তাপে ব্যাগ থেকে ছাতাটা মাথার উপর দিয়ে নীলক্ষেত এলাকার ফুটপাত দিয়ে হেটে আজিমপুরের দিকে যাচ্ছি।

হঠাৎ কে যেন আচমকা পেছন থেকে ছাতার ওপর সজোরে ধাক্কা দিল। ঘুরেই দেখি ফুটপাতারে এক ব্যবসয়ী। ভাই ধাক্কা দিলেন কেন? ব্যবসীর উত্তর- আপনার ছাতার কারণে আমাদের দোকানের সমস্যা হচ্ছে ছাতাটা বন্ধ করে হাঁটেন। কেন বন্ধ করবো? এটা তো ফুটপাত, মানুষ এদিক দিয়ে হেঁটে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কর্কশ ভাষায় ব্যবসয়ীর উত্তর- সরকারকে টাকা দিয়ে এখানে ব্যবসা করি। কথাটা শুনে আমার চোখ কপালে!

সরকারকে টাকা দেয়! কৌতুহলে বশত জানতে চাইলাম সরকারের কোন লোককে টাকা দেন- একটু বলা যাবে। উনি আরও ক্ষেপলেন, ‘আপনি কে? আপনাকে বলতে হবে কেন? একটু নীরব তারপর বললেন, প্রতিদিন বিকালে পুলিশকে টাকা দেই, বুচ্ছেন? পুলিশের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের নাম জেনে লাভ নেই। আমার নাম শুনে রাখুন, আমি বাবু। এই এলাকার সবাই আমাকে এক নামে চেনে।

ওই পথ দিয়ে আমার এক সহকর্মীও যাচ্ছিল। আমার ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথপোকথন শুনে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। ওই ব্যবসায়ী সহকর্মীর সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। পরে কথা না বাড়িয়ে সেখান থেকে চলে আসি। যোগযোগ করলাম নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত হোসেনের সাথে। তিনি ঘটনা শুনে জানান, আমরা কারও থেকে চাঁদা আদায় করিনা, আপনার বিষয়টি আমি দেখছি। তাৎক্ষণিক একটি ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠালেন।

এর পরের গল্পটা সম্পূর্ণ উল্টো। বাবুর চেহারাটা আর আগের মতো নেই, কথার সুরও বদল হয়ে গেছে। শুরু হল তার কাকুতি-মিনতি। হাত ধরে ক্ষমা চাওয়া কিন্তু পুলিশ কি চাইবে তাদের নামে চাঁদা তোলার কথা প্রকাশ করুক? তাই দোকান থেকে বের করে লোকটিকে জামার কলার ধরে চড়-থাপ্পড় লাগালেন। থানায় নিয়ে যাওয়ার উপক্রম। শেষমেষ আমিই তাকে ছেড়ে দিতে পুলিশের কাছে অনুরোধ করি এবং পুলিশ তাকে ছেড়েও দিল।

ফুটপাত তৈরী করা হয়েছে মানুষের চলাচলের জন্য কিন্তু বর্তমানে শহরের ফুটপাতগুলো রয়েছে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের দখলে। আর্ এরা ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, এমপি ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সদস্যদের নাম ভাঙ্গিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা করে যাচ্ছে।যার ফলশ্রুতিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীর।