মেইন ম্যেনু

প্রতি ঘণ্টায় দশমিক ৫ সেন্টিমিটার পানি বাড়ছে পদ্মায়

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ১০৪টি গেট খুলে দেয়ায় পদ্মা নদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধিতে কুষ্টিয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। পদ্মার কয়েক দিনের ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা ও দৌলতপুরের শত শত ঘরবাড়ি। ডুবে গেছে হাজার হাজার একর জমির ফসল। হুমকির মুখে পড়েছে এ দুটি উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা বাঁধের ১০৮টি গেটের মাত্র ৪টি বাদে সব কটি গেটই খুলে দিয়েছে ভারত সরকার। যার কারণে পদ্মায় অব্যাহত ভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়া জেলার মানুষ ভয়াবহ বন্যার আশংকায় রীতিমত দুশ্চিন্তায় পড়েছে। পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে শনিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৬টা পর্যন্ত পানির লেবেল এসে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১২ সেন্টিমিটারে। যা বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর বিপদসীমা অতিক্রম করতে লাগবে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে প্রতি ঘণ্টায় পয়েন্ট ০৫ সেন্টিমিটার পানি বাড়ছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার গোলাপনগর-রায়টা ও দৌলতপুরের রায়টা-মহিষকুণ্ডি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন চরম হুমকির মুখে। আর এ হুমকিকে সামনে রেখেই সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মার ভাঙ্গনে ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ছলেমন নগর পুরোপুরি ও ঢাকাপাড়ার অধিকাংশ ঘর-বাড়িসহ ভেড়ামারা দৌলতপুরের শত শত আবাসস্থল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পা বাড়িয়েছে নতুন গন্তব্যে। তারা পায়নি সরকারি কোন ত্রাণ সাহায্য। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। দেখা দিয়েছে নিজেদের পাশাাঁশি গো-খাদ্যেরও অভাব। পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির পাট, কলা ও পানের বরজ। দুঃখ কষ্টের বর্ণনা দিয়ে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ছলেমন নগর ও ঢাকাপাড়া গ্রামের পদ্মার ভাঙ্গনে সব হারানো মুক্তিযোদ্ধা আসলাম আলী, একই এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা সবুরা খাতুন।

এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহী নগরীর কয়েকটি এলাকার পদ্মার তীর রক্ষা প্রকল্প কাজ। ইতোমধ্যেই বুলনপুর এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের নিচে পদ্মার তীর রক্ষা প্রকল্পের চারটি স্থান সামান্য দেবে গেছে। বালির বস্তা ফেলে মাটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ স্থানগুলো ধসে গেলে শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, ভারতের বন্যার প্রভাব ও ফারাক্কার গেট খুলে দেয়ার কারণে পদ্মায় হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।
চর গোলাপনগর ঢাকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ রোকেয়া খাতুন পদ্মার পানিতে আটকে পড়া চর গোলাপনগর ঢাকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার দলীয় নেতাকর্মীরা ভাঙ্গনকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সেখানে পরিদর্শন করেছেন ।
ভাঙ্গনকবলিত অসহায় মানুষকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী অফিসার শান্তি মণি চাকমা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমুল হক জানান, বন্যা প্রতিরোধে তৎপর রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিয়ে সৃষ্টি করা কৃত্রিম প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সজাগ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।