মেইন ম্যেনু

প্রতীক-কার্যালয় পেতে আদালতে যাবে জাসদের বিদ্রোহীরা

দলীয় প্রতীক মশাল এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দখল পেতে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের বিদ্রোহী অংশের কার্যকরী সভাপতি ও সাংসদ মাইনুদ্দীন খান বাদল।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ এলাকার এমপি হোস্টেলে সাংসদ রেজাউল করিম তানসেনের কার্যালয়ে জাসাদের (আম্বিয়া ও প্রধান) অংশের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এসময় শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান তার সঙ্গে ছিলেন।

মাইনুদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘জাসদের নির্বাচনী কাউন্সিলে জনাব ইনুর অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তবে ঐক্যের দরজা খোলা রাখা আছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় চারজনের নামে। এ চার জন হলেন- শ্রমিক নেতা আব্দুল কাদের, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, কাজী আরেফ আহমেদ এবং হাসানুল হক ইনু। এর মধ্যে কাজী আরেফ মারা গেছেন। আর আব্দুল কাদের বর্তমানে অসুস্থ হলেও তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন।’

আর দলীয় প্রতীকের প্রসঙ্গে মাইনুদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘যারা মেজরিটি, নিবন্ধন ও প্রতীক তাদের। দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৪ জনের একজন মারা গেছেন। একজন অসুস্থ আর একজন তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। বাকি ১১ জনের মধ্যে সাতজন আমাদের সঙ্গে আছেন। তাদের মধ্যে- শরীফ নুরুল আম্বিয়া, নাজমুল হক প্রধান, আমি, ইন্দু নন্দন দত্ত, মনসুর আহমেদ আগা, ড. মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ এখানে উপস্থিত আছেন।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য লুৎফা তাহের বৃহস্পতিবার ভোরে বিদেশে গেছেন। রেজাউল করিম তানসেন বগুড়া থেকে এখানে পৌঁছাতে পারেননি, তার কাছ থেকে আপনারা জেনে নিতে পারেন।’ বোঝাই যাচ্ছে মেজরিটি কারা- মাঈনুদ্দীন খান বাদল মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল আম্বিয়া জানান, যদি কাউন্সিল ও কমিটি বাতিল করা হয় তা হলে তারাও ঐক্যের স্বার্থে নিজেদের ঘোষিত কমিটিও বাতিল করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নব্বইয়ের গণঅভুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে অন্যতম সাবেক ছাত্রনেতা নাজমুল হক প্রধান এমপি। তিনি জাসাদের পুর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করেন।

শরীফ নূরুল আম্বিয়াকে সভাপতি, সাংসদ নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ মঈনুদ্দীন খান বাদলকে কার্যকরী সভাপতি করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের দু’বছর মেয়াদে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দলের সহ-সভাপতিরা হলেন- সাংসদ রেজাউল করিম তানসেন, ইন্দু নন্দন দত্ত, আবদুল হাই তালুকদার, খোরশেদ আলম খোকা, এটিএম মহব্বত আলী, কলন্দর আলী, সৈয়দুল আলমভ। অপরদিকে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন- মোহাম্মদ খালেদ, মোখলেছুর রহমান মুক্তাদির, করিম শিকদার, মঞ্জুর আহমেদ মঞ্জু, মোহাম্মদ মহসীন। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন- আবুল কালাম আজাদ বাদল, ড. বীণা শিকদার, ডা. আবদুর রাজ্জাক, ভানু রঞ্জন চক্রবর্তী, এমরান আল আমিন। দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন- ইউনুছুর রহমান।

স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলেন- শরীফ নূরুল আম্বিয়া, নাজমুল হক প্রধান, মঈনুদ্দীন খান বাদল, লুৎফা তাহের, রেজাউল করিম তানসেন, অ্যাডভোকেট আবু মো. হাশেম, ইন্দু নন্দন দত্ত, মনসুর আহমেদ আগা, মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, প্রকৌশলী সফিউদ্দিন আহমেদ বেলাল।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ জাসদের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আর এরপরের দিন জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণা করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) বিবদমান দুই অংশ। এক অংশে থাকেন পার্টির সাবেক সভাপতি হাসানুল হক ইনু অপর অংশে সাধারণ সম্পাদক শরিফ নুরুল আম্বিয়া।