মেইন ম্যেনু

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় শোলাকিয়ার বোমা হামলা

‘সকাল নয়টার দিকে মুসল্লিরা যখন নামাজের জন্য শোলাকিয়ার মাঠে যাচ্ছিলেন তখন চাপাতি হাতে কয়েকজন যুবককে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখি। এসময় মাঠের পাশেই আজিমউদ্দীন স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা টহল পুলিশের একটি দল তাদের দিকে এগিয়ে গেলে বোমা হামলা করে দুর্বৃত্তরা। আমরা তখন প্রাণ ভয়ে যে যেদিকে পারি দৌড় মারি।’ এভাবেই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের পাশে বোমা হামলার বর্ণনা দেন প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান, আল আমিন ও মোফাজ্জল হোসেন।

পুলিশের গুলিতারা বলেন, হামলাকারীরা সংখ্যায় ৮-১০ জন ছিল। বোমা হামলার পর পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে দফায় দফায় গুলি বিনিময় হয়। হামলাকারীরা প্রথমে আজিমউদ্দীন স্কুলের আশপাশের বাড়িতে গিয়ে ঢুকে পুলিশের ওপর গুলি চালায়। এসময় পুলিশও পাল্টা অবস্থান নিয়ে গুলি করে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান আরও জানান, পরে খবর পেয়ে দুপুরের দিকে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাগুলো মিলে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। এসময় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন আবদুল হান্নানের বাসা থেকে এক সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া আরেক সন্দেহভাজনকে শোলাকিয়া মাঠের পাশ থেকেই আটক করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ স্থানীয় বাবুল নামে নিরাপরাধ একজনকে আটক করেছে। পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা স্থানীয়দের বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ে। বাবুলের বাসাতেও সেরকম একজন ঢুকে পড়েছিলো। পুলিশ শুধু শুধু বাবুলকে আটক করেছে বলে প্রতিবেশীরাও জানান। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রসঙ্গত, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের আধা কিলোমিটারের মধ্যে বোমা হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত এবং কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন, তার নাম ঝর্ণা রানি ভৌমিক। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহত আরেকজন হামলাকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।