মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে ছাত্রদল নেতাকে মারধর

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা ইসরাফিল চৌধুরী সোহেলকে মারধর করেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইসরাফিল চৌধুরী সোহেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি অর্থনীতি বিভাগের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী সজল জানিয়েছেন, আহত ইসরাফিলকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়ার পর সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ইসরাফিল ক্লাস করতে সমাজবিজ্ঞান অনুষদে গেলে শহীদ রফিক-জব্বার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নওশাদ আলম অনিকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের উপপরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, আল বেরুনী হল (সম্প্রসারিত ভবন) সভাপতি সুমন সরকার, সহসম্পাদক অনিক কুমার, সাইমন ও মশিউর রহমান নামে আরো দুই ছাত্রলীগ নেতা ইসরাফিলকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবাল ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইসরাফিলকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।

মারধরের ব্যাপারে শহীদ রফিক-জব্বার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নেতা নওশাদ আলম অনিক বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে সোহেল (ইসরাফিল) ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করছিলেন। এ জন্য তাঁকে চড়-থাপ্পড় মেরে প্রক্টরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্যামল কুমার শীল জানান, ‘মারধরের কারণে ইসরাফিলের হাত ও পায়ের দুই স্থানে ক্ষত হয়েছে, এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।’

এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ শুভ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের নেতা-কর্মীদের হামলা চালাচ্ছে। ছাত্রলীগ নেতারা তাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘সোহেল (ইসরাফিল) দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পরিবার ও ছাত্রলীগকে কটূক্তি করে বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি ফেসবুকে শেয়ার করে আসছে, এ জন্য আমাদের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মারধর করেছে।’

এ প্রসঙ্গে সহকারী প্রক্টর মেহেদী ইকবাল বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসরাফিলকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠিয়ে দেই। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।’