মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, শিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার হচ্ছে

শিক্ষকদের বেতন কাঠামো সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই আশ্বাসের পর শিক্ষক নেতারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামীকাল মঙ্গলবার।

দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক শেষে গণভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল। তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় আমাদের কথা শুনেছেন। ধৈর্যসহকারে শোনার মধ্যদিয়ে একটি জিনিস পরিষ্কার হযেছে যে আমাদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক।

ফরিদ উদ্দিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।তিনি বলেছেন, আমরা একটা সোপান তৈরি করে দেব যাতে করে শিক্ষকদের মধ্য থেকে একটি অংশ সর্বোচ্চ গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ পাান।প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে, কারা সর্বোচ্চ গ্রেডে যেতে পারেন, কেন এটা দেয়া উচিৎ সে বিষয়ে তিনি আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন।

শিক্ষক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।পরে তিনি বলেছেন, এগুলোতো এখনই অর্থাৎ আজই দিয়ে দেয়া যাচ্ছে না।সরকারের একটা প্রসেস রয়েছে। সে অনুযায়ী হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিতি ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করতে বলেছেন। আমরা তাকে বলেছি, আমরা কাল মঙ্গলবার ফেডারেশনের বৈঠক ডেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।

সোমবার সন্ধ্যার পর পরই আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে গনভবনে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে হাসিমুখে গণভবন থেকে বের হয়ে আসেন শিক্ষক নেতারা।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আজকের বিকালের পিঠা উৎসবে অন্যান্যের সঙ্গে শিক্ষক নেতারাও যোগদেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালসহ বুয়েট, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

শিক্ষক নেতারা বলছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ মিনিট বসতে পারলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাঁর সঙ্গে বসতে পারলেই আমরা তাকে বুঝাতে পারবো বলে মনে করছি। গতকাল সন্ধ্যায় শিক্ষক নেতারা শিক্ষা সচিবের কাছে তাদের সর্বশেষ দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

গত ১১ জানুয়ারি সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শিক্ষকরা। ওইদিন বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অষ্টম পে-স্কেলে শিক্ষকদের অবনমনের প্রতিকার ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে এ কর্মবিরতির পালন করা হচ্ছে। সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মবিরতি চলাকালীন পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

এই কর্মবিরতিতে যাওয়ার আগে আরো দুইদিন কর্মসূচি পালন করা হয়। ৩ জানুয়ারি একই দাবিতে শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। ৭ জানুয়ারি স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন শিক্ষকরা।