মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫ মিনিট সময় চান শিক্ষকরা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ মিনিটের জন্য সময় চান বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

সোমবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য আট মাস ধরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দেখা করার সুযোগ পাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ মিনিটের জন্য দেখা করে আলোচনা করলে আশা করি এই সংকট নিরসন হবে।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, বেতন ভাতা নয়, আমরা মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে নেমেছি, শিক্ষকদের চেয়ে আমলার মর্যাদা বেশি হতে পারেনা। তারপরেও বেতনভাতা বৃদ্ধি করায় আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।

গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পেটের ক্ষুধা মিটালাম, এখন কেউ প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি শুরু করেছেন। এতো বেতন বাড়ানোর পরও কারও কারও কেন অসন্তোষ তা আমার বোধগম্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা সচিবের মর্যাদা চাইলে চাকরি ছেড়ে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সচিব হয়ে যান। কোনো দাবি ছাড়াই আমি শিক্ষকদের বয়স ৬৫ বছর করে দিয়েছি; তারা কি চান এখন সচিবদের সঙ্গে মিলিয়ে আবার তাদের বয়স ৫৯ বছর করি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের এবং দেশের অভিভাবক। বিগত সময়ের চেয়ে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধিতে তিনি সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষকদের নিয়ে তার মন্তব্যে আমরা লজ্জিত। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে কথা না বলে একতরফাভাবেই এসব কথা বলেছেন। এক শ্রেণির কুচক্রী মহল প্রধানমন্ত্রীকে ভুলভাল বুঝিয়ে আমাদের হেয় করার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। আমাদের কাছ থেকে শুনলে প্রধানমন্ত্রী হয়তো এমন বলতেন না। আমরা কাউকে প্রতিপক্ষ ভাবি না। আমরা চাই সমস্যা সমাধান করে ক্লাসে ফিরে যেতে।

তিনি বলেন, ছাত্রদের ক্ষতি হোক আমরা কখনোই তা চাই না। আমরা মানুষ গড়ার কারিগর, প্রয়োজনে আমরা বন্ধের দিনগুলোতেও ক্লাশ নেব।

সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবির এই শিক্ষক বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। তবে কর্মবিরতি আমাদের চাওয়া নয়, আমরা সবাই শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে চাই। সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট মতামত পেলেই আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাব।