মেইন ম্যেনু

প্রধানমন্ত্রী নাখোশ, পদ হারাতে পারেন পিনু খান

জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলের অপকর্মের দায় ভোগ করা লাগতে পারে মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খানকে। এ জন্য তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে। সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিনু খানের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন। তিনি লন্ডন থেকে ফিরে এসে শাহজালাল বিমানবন্দরেই এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। পরে দলীয় সিনিয়র নেতাদের কাছেও এ ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জোড়া খুনের ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তারের পরপরই তার মুক্তির জন্য আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতার দুয়ারে দুয়ারে ধর্ণা দেন পিনু খান। তিনি শীর্ষ নেতাদের বলেছিলেন, মিথ্যা অভিযোগেই তার ছেলেকে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় রনি ইউনাইটেড হাসপাতালে ছিল বলেও দাবি করেন পিনু খান। তবে সেদিন গাড়িতে থাকা রনির তিন বন্ধুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং গাড়ি চালকের স্বীকারোক্তির পর পর্দার আড়ালে চলে গেছেন পিনু খান। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও এখন পিনু খানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রথমদিকে একাধিক নেতা তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও সেই নেতারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। পিনু খানকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে এই গুঞ্জন শোনার পর কেউ আর তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চাচ্ছেন না।

মহিলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেত্রী জানান, বখতিয়ার আলম রনির জোড়া খুনের বিষয়টি ছাড়াও পিনু খানকে নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরে নানান বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে দলীয় নেতারা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহিলা লীগের একাধিক সিনিয়র নেত্রী বলেন, এমনিতে পিনু খানের বিরুদ্ধে দলীয় পদ ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম করেছেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়েও নিজেকে সাধারণ সম্পাদক দাবি করতেন। তার কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তারা বলেন, কাযনির্বাহী কমিটির সভায় আমরা তার এবিষয়গুলো আলোচনা করবো। আমরা দাবি করবো যেন তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেছা মোশারফ বলেন, এ ব্যাপারে নেত্রী আমাদের যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটা আমরা মেনে নেবো।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি তার মার প্রাডো গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলে হালকা যানজটেই বিরক্ত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে এক অটোরিকশাচালক এবং এক রিকশাচালক আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনার রাতে রনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে। পিনু খান সংসদ সদস্য হওয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে এ প্রাডো গাড়ি কেনেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৩১ মে রনি ও তার গাড়িচালক ইমরান ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রনিকে রিমান্ডে নিলে নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ওই রাতের জোড়া খুনের ঘটনা রনির পিস্তলের গুলিতেই ঘটেছে।