মেইন ম্যেনু

পানামা কেলেঙ্কারি: প্রধানমন্ত্রী পদে বহালই থাকলেন নওয়াজ

পরিবারের সদস্যদের পানামা কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তবে রায়টি বিভক্ত দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিচারকরা। পাঁচ সদস্যের বিচারক প্যানেলের মধ্যে তিনজন নওয়াজের পক্ষে এবং দুজন তার বিরুদ্ধে রায় দেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের রায়ে স্বস্তি ফিরেছে নওয়াজ সমর্থকদের মধ্যে। রায়টি নওয়াজের বিরুদ্ধে গেলে প্রধানমন্ত্রীর পদ সরে দাঁড়াতে হতো।

পাকিস্তান ভিত্তিক গণমাধ্যম জিইওটিভির খবরে বলা হয় বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় এর রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়েছে মামলাটি অধিকরত তদন্তের জন্য জয়েন্ট ইনভেস্টিকেশন টিম (জেআইটি) কে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

তবে নওয়াজ শরিফ ও তার দুই ছেলে হাসান ও হোসেনকে জেআইটির কাছে নিয়মিত হাজিরা দিতেও বলা হয়েছে ওই রায়ে।

জঙ্গিদের দৌরাত্ম্যে ভরা দেশটিতে যেখানে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে, সেখানে আদালতের এমন সিদ্ধান্তে এ গতি আরো বেগবান হবে বলেও মনে করছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত বছর বিতর্কিত পানামা পেপারস ফাঁস হয়। পানামাভিত্তিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার এক কোটিরও বেশি নথি ফাঁস হয়। এসব নথিতে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং থেকে শুরু করে বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফসহ বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম উঠে আসে। ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কীভাবে, কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, তা বেরিয়ে আসে এসব তথ্যে।

ফাঁস হওয়া নথিতে নওয়াজের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনজন মরিয়ম, হাসান ও হোসেনের নাম এসেছে। নওয়াজের সন্তানেরা মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন অফশোর কোম্পানির মালিকানার অংশীদার। সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), জামায়াতে ইসলামিসহ কয়েকটি দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।

নওয়াজ শরিফের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) দাবি, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বৈধপথে পারিবারিক ব্যবসা থেকেই এই সম্পদ অর্জিত হয়েছে।