মেইন ম্যেনু

প্রবাসের খোলা চিঠি…

মা,
আজ মনে পড়ে গেল সেই দিনটির কথা
যে দিন আমি বিদেশ চলে এলাম,
তোমার এবং বাবার আদেশ পেয়ে,
যা খুব সহজে আমি মেনে নিতে পারেনি।
আর তোমরা ও না।

প্রবাস কি?
সন্তানের দুঃখ কষ্ট
মা, বাবা, ছাড়া যেমন আর কেউ বোঝেনা
প্রবাসের নির্মম নিষ্ঠুর কঠিন বাস্তবতা
প্রকৃত প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বিশ্বাস করেনা.
প্রবাসে আসার পরই বুঝলাম,
আসলে এখানে কেউ কারো নয়
টাকার পেছনে দোড়াতে গিয়ে
সবাই ভূলে যায় আপন পর।
আর “সম্পর্ক” সেতো
হেংগারে ঝোলানো কাপড়ের ন্যয়,
সময়ে যতটা মূল্যবান,
প্রয়োজন পুরিয়ে গেলে ততটা মূল্যহীন।

প্রবাস মানে,
জেল খানার অপর নাম,
হাজারো নিয়মে বাঁধা ক্যম্প জীবন,
কবুতরের খাঁচার মত দম বন্ধ হওয়া রূম,
বাথরূমের সামনে ভোর চারটার লম্বা লাইন,
হাঁড় ভাঙ্গা খাটুনি,
অসহনীয় ঘরমের মাঝে ও
দু’বেলা খাবারের অনন্য আয়োজন।

আর মাস শেষে
স্বজনদের মুখে হাঁসি ফোটানোর
“টাকা” যা পাঠানোর জন্য
রাত দশটায় এক্সচেন্জের লম্বা লাইন,
তারপর হয়তো ক্লান্তির ঘুম,
কর্মমুখর আর একটি সকালের শুরূ।

আর দেশে থাকা স্বজনদের
“চাহিদা” পূরণে ব্যর্থ হলে
থাকেনা তার মূল্যয়ন
যা পূর্বে ছিল।

মা,
এভাবেই চলে যায়
স্বজনদের ছেড়ে হাজার মাইল দুরে থাকা,
অসহায় অনেক প্রবাসীর জীবন।
অনেকে আবার লাশ হয়ে,
ফিরছে আপন গন্তব্যে।

আমার কথা
আর একদিন না হয় বলবো,

মা
অনেক কিছুই পেরিয়ে এসেছি
প্রবাসের কষ্টকর এই সময়ে,
কোনোভাবেই ভূলতে পারছিনা।
তোমাকে বা তোমার সাথে জড়ানো,
হাজারো স্মৃতিকে।
সপ্ন দেখি হয়তো,
আবার ফিরে যাবো তোমার কোলে।
দিনের বেলায় মাছ ধরতে যাবো,
নদীতে বা বাড়ির ছোট পুকুরে.
আর পরিবারে সবাই মিলে,
চাঁদনী রাতে ঘুরে বেড়াবো,
গ্রামের আঁকাবাকা পথে।

আর সালাতুল ফজরের পর
অপেক্ষায় থাকবো
তোমার হাতের রান্না
ভুনা খিছুড়ী খেতে।