মেইন ম্যেনু

প্রভুর জন্য প্রতীক্ষা

প্রিয়জনের জন্য প্রতীক্ষা সবসময়ই চরম ধৈর্যের পরীক্ষা নেয়। কিন্তু এই পরীক্ষার ফল সব সময় মধুর হয় না। কখনও কখনও সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয় এর কষ্ট। সেই কষ্ট গত আট মাস ধরে বয়ে বেড়াচ্ছে নাগাও নামের একটি কুকুর।

গত বছরের শেষের দিকে ব্রাজিলের সান্তা ক্যাটারিনার রুথ কারডোসো হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তার মনিবকে। সেই থেকে দীর্ঘ আট মাস ধরে হাসপাতালের বাইরে মনিবের জন্য অপেক্ষা করে আছে কুকুরটি।

হাতপাতালে ভর্তির পরপরই তার মনিব মারা গেলেও সে হাসপাতালের গেট ছেড়ে নড়ছে না। এ ঘটনা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বের কোটি মানুষের মন জয় করেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বছর শেষের দিকে। অসুস্থ হয়ে পরলে এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে দৌড়ে হাসপাতালে আসে নেগাও। এরপর বাইরে থেকে সে দেখে তার মনিবকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই থেকে বাইরে বসে মনিবের ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে নেগাও। এখনো সেই হাসপাতালে কোনো অ্যাম্বুলেন্স এলে নেগাও ছুটে যায় সেখানে। উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে ভেতরে তার মনিব রয়েছে কি না। কুকুরটি এখনো জানে না তার মনিব না ফেরার দেশে চলে গেছে।

পরে হাসপাতালের স্টাফরা নেগাওয়ের পেছনের গল্প শুনে তার যত্ন নেওয়া শুরু করে। তার জন্য খাবার এবং পানি সরবরাহ করা হয়। এমনকি তার থাকার জন্য একটি স্থানও তৈরি করা হয়।

নেগাওয়ের প্রভুভক্তির গল্প শুনে দুবার তাকে দত্তক নেওয়ার চেষ্টা করে দুটি পরিবার। কিন্তু সেখান থেকে পালিয়ে আবার হাসপাতালের সামনে প্রভুকে খুঁজতে চলে আসে নেগাও। তারপর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে দত্তক দেওয়ার চিন্তা ছেড়ে দিয়েছে। বরং তারা এমন একটি সংস্থার খোঁজে রয়েছেন যারা কুকুরটির ভালো দেখভাল করবে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হয়ে গিসেলে বিয়াঞ্চি বলেন, ‘সে যতদিন ইচ্ছা এখানে থাকবে। তাকে জোর করা হবে না। আর যতদিন সে এখানে থাকবে হাসপাতাল থেকে তাকে সব ধরনের যত্ন দেওয়া হবে।’

হাসপাতালের কর্মীরা নেগাওকে তাদের পরিবারের অংশ হিসেবে মেনে নিয়েছে। প্রতিদিন তার সঙ্গে তারা সময় কাটায় এবং যত্ন নেয়।