মেইন ম্যেনু

মগবাজার ফ্লাইওভার উদ্বোধন

প্রমাণ করতে হবে আমরাও পারি

মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়কের একাংশ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাকি অংশের কাজও দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেছেন, কেবল এই ফ্লাইওভার নয়, নগর জীবনকে পাল্টে দিতে অনেকগুলো কাজ চলছে। সরকার কেবল রাজধানী নয়, গোটা দেশের উন্নয়নে কাজ করছে।

সকালে সাতরাস্তা মোড়ে উড়ালসড়কের ফলক উন্মোচন করে উড়ালসড়ক ধরে রমনার অফিসার্স ক্লাবে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়েই উড়াল সড়কের এই অংশে যান চলাচল শুরু হয়।

অফিসার্স ক্লাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশকে উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে আগাতে হবে। কারও কাছে হাত পেতে নয়, প্রমাণ করতে হবে আমরা নিজেরাই পারি, এই চিন্তা চেতনা নিয়েই দেশকে গড়ে ‍তুলতে হবে’।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে প্রতিনিয়ত মানুষের আসার স্রোতও বাড়েছে। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, আর্থিক স্বচ্ছলতাও বাড়ছে, গাড়ি কেনার ক্ষমতাও বাড়ছে। দুই-তিনটি গাড়িও চালাচ্ছে এক একটি পরিবার। এ কারণে যানজট বাড়েছে।

যানজট নিরসনে ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ নানা পরিকল্পনা নিয়েছিল জানিয়ে সেগুলো শেষ না হওয়ায় আক্ষেপের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, কিছু কাজ করেছিলাম, কিছু শেষ হয়নি। কিন্তু পরের সরকার ক্ষমতায় এসে এগুলো আর মাথায় রাখেনি। অনেকগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন, অনেকগুলো কাঁটছাঁট করায় সমস্যা বেড়েছে’। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেন তিনি। মগবাজার-মৌচার ফ্লাইওভার এরই অংশ।

রাজধানীতে ‍উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঢাকায় কাজ করতে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মানুষের যাতায়াতের সমস্যা দেখতে হয়’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানীর সৌন্দর্যবর্ধন ও জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য কাজ শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবেই হাতিরঝিল প্রকল্প করা হয়েছে। কুড়িল বিশ্বরোড় উড়াল সেতু, বনানী উড়াল সেতু, গুলিস্তুান-যাত্রাবাড়ী উড়াল সেতু,

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত র‌্যাপিড বাস ট্রানজিট ও বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে’।

রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসবে আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরী ও আশেপাশে বিভিন্ন ধরনের পরিবহণে যেন একই টিকিটে চলাচল করা যায়, সে জন্য ই টিকিট চালু হবে। একটা টিকিট কিনেই যে কোন বাহনে যাতায়াত করা যাবে।

একটি বিদেশি সংস্থা বিআরটিসিকে বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ করেছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সে পরামর্শ না মেনে নানা উদ্যোগে সংস্থাটিকে লাভজনক করেছে সরকার। জানান, বিআরটিসির ট্রাক ব্যবহার করে বই বিতরণ করা হয়। সরকারি পণ্য পরিবহণেও এসব ট্রাক ব্যবহার করা হয়। বলেন, ‘গণপরিবহণেও সরকারি প্রতিষ্ঠান না থাকলে বেসরকারি বাস ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াবে’।

সরকার রেল ও নৌপথকেও গুরুত্ব দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলাদা মন্ত্রণালয় করে সারাদেশে রেল নেটওয়ার্ক করা হচ্ছে।আরও উন্নত করতে হবে। নদী ড্রেজিং করে নৌপথকে সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর সুফল পাবে প্রত্যন্ত এলাকার জনগন’।

দেশের পাশাপাশি সরকার আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বাংলাদেশ ভারত, নেপাল, ভুটানের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ চালু হচ্ছে। মিয়ানমার-চীনের সঙ্গেও সড়ক যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ব্যবসা বাণিজ্য আরও বাড়বে’।

সড়ক দুর্ঘটনা হলেই যানবাহন বা চালকের ওপর হামলা না করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। যত্রযত্র রাস্তা পারাপার না হতেও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।