মেইন ম্যেনু

প্রযুক্তির সহায়তায় মানুষের সঙ্গে কথা বলবে কুকুর!

সিনেমার দৃশ্য আমরা অনেকবারই দেখেছি, মালিক বিপদে পড়ায় তার কুকুরটি তাকে বিপদ থেকে উদ্ধারের আশায় অন্য মানুষজনের কাছে গিয়ে জামা কামড়ে তার সঙ্গে আসার জন্য টানাটানি করতে থাকে। যাতে তার সঙ্গে এসে মালিককে সাহায্য করে।

যেহেতু মানুষকে সরাসরি বলে বোঝানোর ক্ষমতা কুকুরের নাই, তাই অন্যের কাছে আচরণের মাধ্যমে মালিকের জন্য সাহায্য চেয়ে থাকে।

তবে বর্তমানে বাস্তবের ঘটনা হচ্ছে, জর্জিয়া টেক-এর একদল গবেষক কুকুর প্রজাতিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষমতা দেবার কাজ করে যাচ্ছে এবং তা সম্ভব হলে সেটি কুকুরদের পরিষেবার ক্ষেত্রে এক বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

এর অংশ হিসেবে জর্জিয়া টেক ব্রেইনল্যাব-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক মেলোডি মুর জ্যাকসন সম্প্রতি কুকুদের পরার জন্য প্রযুক্তি নির্ভর ভেস্ট তৈরি করেছেন। আর এতে থাকা সেন্সরটি সহজেই চালু করে স্বয়ংক্রিয় অডিও বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে সাহায্যের জন্য মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে কুকুর।

প্রায়ই সহায়তা পেতে যোগাযোগ করতে হয় এমন কুকুরদের জন্য এটি বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে। যেমন কুকুর এর মালিক অচেতন হয়ে পড়লে, কুকুর এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজে পথচারীর কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারে। প্রযুক্তি নির্ভর ভেস্টটি থেকে একটি অডিও বার্তায় কুকুর অন্য কাউকে জানাবে, ‘এক্সকিউজ মি, আমার মালিক এর আপনার মনোযোগ প্রয়োজন’।

শুধু তাই নয়, অনুসন্ধান এবং উদ্ধার অভিযানে যেসব কুকুর নিয়োজিত, তারা এর মাধ্যমে কারো খোঁজ পাওয়া মাত্রই জিপিএস চিহ্নিত করে বার্তা পাঠাতে পারবে।

এছাড়া অন্য উপায়েও যোগাযোগ করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, কখনো কুকুর তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ না করে, এর মাধ্যমে মালিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারবে।

জ্যাকসন তার একটি সাক্ষাৎকারে একটি প্রত্যক্ষ দৃশ্যের বরাত দিয়ে বলেন, ‘একদা একটা কুকুর তার অন্ধ মালিককের সঙ্গে যাত্রা পথে থেমে গিয়ে একটি দূর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল কারণ পথটি ছিল ভেজা, যা তার অন্ধ মালিক লাঠি দিয়ে শনাক্ত করতে পারেনি।’

জ্যাকসন জানান, প্রযুক্তি নির্ভর ভেস্ট সহজে কুকুরকে তার মালিকের এমন অবস্থায় রুট পরিবর্তন করতে সাহায্য করতে পারবে।

নতুন এই প্রজেক্টটি সম্পর্কে জ্যাকসন বলেন, ‘আমরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। আরো গবেষণা করে দেখছি যে এই সেন্সরকে ব্যবহার করে আরো কোন কোন সেবা কুকুরের কাছ থেকে পেতে পারি।’