মেইন ম্যেনু

প্রসঙ্গ : ঐতিহাসিক জ্বীনের মসজিদ

হামিদা আক্তার স্মৃতি : কথিত আছে প্রায় দু’শ বছর পূর্বে জ্বীনেরা নিজেরাই শ্রমিক সেজে গভীর রাতে এক যোগে হাজার হাজার জ্বীন কাজ করে নির্মাণ শৈলীসহ এই মসজিদটি এক রাতেই নির্মাণ করে ফেলেন। পুরানো এই মসজিদের ইতিহাস ঐতিহ্য বলতে গিয়ে এলাকার বয়োজৈষ্ঠ্যরা এমনটাই বলেছেন বলে দাবী বর্তমান প্রজন্মের। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা য়ায়, এলাকাটি একটি উঁচু ও পিরামিড আকৃতির ছিলো। বন জঙ্গলের মধ্যেই ছোট্ট একটি মসজিদ ঘর নির্মাণ করে এলাকার মানুষ নামাজ আদায় করতো। কিন্তু হটাৎ এক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মানুষজন দেখতে পান এক রাতের মধ্যে এই নির্মাণ শৈলীসহ মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন জ্বীনেরা। ফলে পরের দিন হটাৎ মাটির উপড়ে এই মসজিদটি দেখতে পান এলাকাবাসী। জনশ্রুতি আছে, সে সময়ে মসজিদ দেখতে এবং সেখানে নামাজ আদায় করতে দুর-দুরান্ত থেকে মুসল্লিরা আসতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে দিনের পর দিন মসজিদটি সংস্কার কাজে হাত দেয়নি কেহই। কারন হিসেবে এলাকাবাসীরা জানান, যেহেতু মসজিদটি নির্মাণ করেছে জ্বীন, তাই তারাই এই মসজিদের দেখভাল করেন। প্রয়োজনে জ্বীনেরাই মসজিদের সংস্কার কাজ করে দিবেন। এই ভ্রান্ত ধারনা থেকেই নিরব থাকেন এলাকাবাসী। ফলে এভাবেই কেটে যায় প্রায় দুই’শ বছর। ধীরে ধীরে এক সময় মসজিদের নির্মাণ শৈলীগুলিও বিলীণ হতে থাকে। ভেঙে যেতে থাকে কথিত জ্বীনদের হাতে গড়া কারুকার্যপূন্য এই মসজিদটির নির্মাণ শৈলীগুলো। দিনের পর দিন বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও মসজিদের সংস্কার করা হয়নি। এভাবেই কেটে যায় শত বছর বয়সী এই পুরনো মসজিদটির দিন। মসজিদে নামাজ আদায়কারী মুসল্লীদের সংখ্যাও কমতে থাকে ধীরে ধীরে। এই মসজিদটির সামনেই মাত্র ১’শ গজ পূর্বে সেই সময় নির্মান করা হয়েছিল একটি মসজিদ। যা এখনও রয়েছে। এত বড় একটি মসজিদ এখানে কথিত জ্বীনেরা নির্মাণ করে দিলেও আজো স্মৃতি সরুপ মানুষের হাতে গড়া ছোট্ট সেই মসজিদ এখনও ভেঙ্গে ফেলেননি এলাকাবাসী।

কথিত এই জ্বীনের মসজিদটি দেখতে হলে যেতে হবে ঠাকুরগাঁও জেলা শহর। পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে ঠাকুরগাঁও থেকে ১২ কিলোমিটার অতিক্রম করে ভুল্লী বাজার নামক স্থানে নেমে পাঁচপীর অভিমুখে রওয়ানা দিয়ে মাত্র ৭ কিলোমিটার রাস্তা গিয়েই ছোট বালিয়া ঐতিহাসিক জামে মসজিদটি চোখে পড়বে। এই ছোট্ট মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা বালিয়া চৌধুরী পরিবারের প্রথম পুরুষ হাজী মেহের বকস চৌধুরী। এই চৌধুরীর পুত্র মরহুম বসরত আলী চৌধুরী। তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি মেহের বকস চৌধুরীর দৌহিত্র আলহাজ তসবিফা খাতুন। মসজিদটি ভেঁঙ্গে জরাজীর্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি পরবর্তীতে পুনরায় ১৯ নভেম্বর’২০১০ সালে ইতিহাস ঐতিহ্য’র এই জামে মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু করেন। এদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ প্রশাসক মুহ: সাদেক কুরাইশী এর সৌজন্যে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ইতিহাস ঐতিহ্য’র জামে মসজিদটির পার্শ্বেই এক লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ওযুখানা। ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ছোট বালিয়া গ্রামে ইতিহাস ঐতিহ্য’র এই জামে মসজিদটি কথিত জ্বীনেরা নির্মাণ করে দিয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। জনশ্রুতির এই গল্প মানুষের মুখে শুনে এখনও প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে শতশত মানুষ ভীর করে অপরুপ এই মসজিদটি দেখতে। স্থানীয় কিংবা জেলা শহর থেকে ছেলে-মেয়েরা ছুটে আসে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের সেলফি কিংবা ফটো তুলতে।

গত ৬ জানুযায়ী মসজিদটির দেখতে গিয়ে দেখা মেলে বেশকিছু ছেলে-মেয়েদের সাথে, তারা নিজেদের ছবি তুলছে মসজিদের সাথে দাঁড়িয়ে। তাদের সাথে কথা হলে এই প্রতিবেদককে তারা জানান, যদি ইতিহাস ঐতিহ্য’র এই মসজিদটি হারিয়ে না যায়, তাহলে আরো হাজার বছর দাঁড়িয়ে থাকবে এই মসজিদ। তাই তারা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সরাসরি সরকার এর দায়িত্ব নিয়ে এবং সরকার পৃষ্টপোষেক ভূমিকায় মসজিদটি সংস্কার করা হলে ইতিহাস খ্যাত কথিত জ্বীনের এই মসজিদটির আরো নির্মাণ শৈলী করে গড়ে তুলে হাজার হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দারা একই সুরে বলেন, শত বছর বয়সী অপরুপ এই জামে মসজিদটি এখন রক্ষা করা এ প্রজন্মের প্রাণের দাবী। যেন যুগের পর যুগ ধরে এই মসজিদটি দাঁড়িয়ে থেকে কালের স্বাক্ষী হয়ে রবে হাজারো বছর ধরে।

লেখক : সাংবাদিক