মেইন ম্যেনু

প্রসূতি সব খাবার খেতে পারবে?

ডা. সজল আশফাক : আমাদের দেশে অনেকেই সন্তান জন্মদানের পর প্রসূতি মাকে ভালো কোনো খাবার খেতে নিষেধ করেন। আঁতুড়ঘরে প্রসূতি মাকে সাগু, সুজি খেয়েই অমানবিকভাবে জীবন কাটাতে হয়।

প্রসূতি মাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে না দেওয়াটাই উপকারী বলে মনে করেন অনেকে। তবে এ ধারণা মোটেই ঠিক নয়। প্রসবকালীন মায়ের শরীরের ওপর দিয়ে বাড়তি চাপ বয়ে যায়। সেটিকে পূরণ করার জন্য প্রসব-পরবর্তী সময়ে মাকে বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খেতে দেওয়া উচিত। এ ছাড়া প্রসবের পর শিশুকে বুকের দুধ জোগান দেওয়ার স্বার্থে মা এ সময় ভালো ভালো খাবার খাবেন। তবে কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে অনেক মা-ই এ কাজটি করেন না। এতে মায়ের শরীর ভেঙে পড়ে, মা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অনেকের ধারণা, প্রসব-পরবর্তী সময়ে মাছ-মাংস খেলে শিশুর হাম হতে পারে। প্রসূতি মায়ের ক্ষতি হবে বলে ডিম দুধ খেতে দেওয়া হয় না। বোয়াল, ইলিশ, মৃগেল, গজার মাছ, গরুর মাংস ইত্যাদি খেতে দিলে নাকি প্রসূতির সূতিকা রোগ হয়। এই ভেবে তাঁকে এসব খাবার খেতে দেওয়া হয় না। ভালো শাকসবজি খেলে নাকি মা ও শিশুর পেট খারাপ হয়। এমন সব ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে মাকে কোনো রকম মুখরোচক খাবার খেতে দেওয়া হয় না। এই দোহাই দিয়ে এসব অরুচিকর খাবার মাকে খাওয়ানো হয় মাসের পর মাস। অথচ এ ধারণা একদমই ঠিক নয়। এসব খাওয়ার সঙ্গে বুকের দুধ বেশি হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব ভুল ধারণার কারণে অনেক মা-ই শেষে ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে অপুষ্টিতে ভোগেন- অসুস্থ হয়ে পড়েন।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে, প্রসূতি মাকে সব খাবারই দেওয়া উচিত। এমনকি ঝাল, ঠান্ডা, গরম, চায়নিজ, মোগলাই, ইংলিশ সব খাবারই মা ইচ্ছা করলে খেতে পারবেন। এ ব্যাপারে কোনো রকম বিধি-নিষেধ নেই। তবে আগে অ্যালার্জির উদ্রেককারী খাবার তাঁকে পরিহার করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, গর্ভাবস্থায় শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। কাজেই প্রসব-পরবর্তী সময়ে পুষ্টিকর খাবার না দিলে মায়ের শরীর অসুস্থ হয়ে পড়বে। শিশুকে বুকের দুধ জোগান দেওয়ায় মা এ সময় বেশি বেশি করে খাবেন। যে কোনো খাবারই তিনি খেতে পারবেন। এতে কোনো রকম ক্ষতিরই আশঙ্কা নেই।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ।






মন্তব্য চালু নেই