মেইন ম্যেনু

প্রাগৈতিহাসিক মানুষের তৈরি চিত্রকর্ম

মানুষ তার সৃষ্টিশীলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সেই প্রাচীনকাল থেকে ছবি আঁকছে বা এঁকে চলেছে সেটা অবাক করার মতন কোন বিষয় নয়। কিন্তু কেমন হবে বলুন তো যদি সেই চিত্রকর্মগুলো হয় মানব সভ্যতা গড়ে ওঠার আগের সময়কার? কিংবা তারো অনেক আগের? অবাক হচ্ছেন? আপনাকে আরো অবাক করে দিতেই আজ এমন কিছু প্রাগৈতিহাসিক চিত্রকর্মের কথা বলব যেগুলোর জন্ম হয়েছিল কয়েক হাজার বছর আগে।

১. ট্রিনিল শেল

১৮৯০ সালে পূর্ব জাভার ট্রিনিলে প্রথম আবিষ্কৃত হয় এই সামুদ্রিক ঝিনুকের খোলটি। এক বহু পুরোন কঙ্কালের সাথে খুঁজে পাওয়া যায় একে। তখন অবশ্য খুব একটা মাথাব্যথা দেখা যায়নি কারো খোলটিকে নিয়ে। কিন্তু আবিষ্কারের প্রায় ১০০ বছর পর অত্যন্ত অদ্ভুত আর চমকপ্রদ একটি ব্যাপার খেয়াল করে সবাই ঝিনুকটির গায়ে। অদ্ভূত কিছু আঁকিবুকি। যেগুলোর বয়স কিনা প্রায় ৫০০,০০০ বছর! সেবার প্রথমবারের মতন সবাই মেতে ওঠে ছোট্ট একটুকরো এই ঝিনুকের খোলটিকে নিয়ে। নানারকম পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে, ট্রিনিলে খুঁজে পাওয়া এই খোলটির গায়ে অঙ্কনগুলো করা হয়েছে হাঙরের দাঁত দিয়ে। আর এই কাজটি নিয়ানডারথাল বা তারো পূর্বের মানুষের। যদিও জেনে-বুঝে কেউ এমন অঙ্কন করেছে কিনা সেটা জানা যায়নি, তবু এই ট্রিনিটি শেলকেই পৃথিবীর সবচাইতে পুরোন চিত্রশিল্প বলে ধরে নেওয়া হয়।

২. বিলজিঙ্গসলেবেন এলিফেন্ট টিবিয়া

১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতন বিজ্ঞানীরা জার্মানির বিলজিঙ্গসলেবেনে খুঁজে পান এমন কিছু চিত্রকর্ম যেগুলোর শুরুটা হোমো সেপিয়েন্সেরও আগের। বুনো হাতির হাড়ের ওপর আঁকা এই চিত্রগুলোর বয়স প্রায় ৪০০,০০০ বছর। বিশেসজ্ঞদের মতে হোমো ইরেকটাসরাই এই কাজটি করেছিল। বেশকিছু দাগ আর আঁকিবুকি রয়েছে এই হাড়টিতে। কারো মতে এটা মানচিত্র, কারো মতে কোন ছবি। কেউ আবার ভাষা তৈরির প্রচেষ্টা বলে মনে করলেও এই চিত্রকর্মের আসল অর্থ আজ পর্যন্ত জানা যায়নি।

৩. লা ফেরাসি চাইল্ডস গ্রেভ

দক্ষিণপশ্চিম ফ্রান্সে সেবার নিয়ানডারথালদের কবরের কাছে একটি চিত্রকর্ম আবিষ্কার করেন বিশেষজ্ঞরা। চিত্রকর্মটির বয়স ছিল প্রায় ৬০,০০০ বছর। ১৯৩৩ সালে খুঁজে পাওয়া এই চিত্রকর্মটি পাওয়া যায় এক শিশুর সমাধিতে। সেখানে কেবল এই একটি চিত্রকর্মই নয়। পাওয়া যায় এমন অনেক চিহ্ন যেটা দিয়ে প্রাচীন মানবদেরকে একটু হলেও বিশ্লেষণ করা যায়। যদিও এখনো অনেকের সন্দেহ আছে এই সমাধিটি আদতে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছিল, নাকি হঠাত্ করে মাটিচাপা পড়ে বা অন্যকোন দূর্যোগের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল। তবে সত্যিটা যেটাই হোকনা কেন, প্রাচীন চিত্রকর্মের ভীড়ে এই সমাধির চিত্রকর্মটিও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।