মেইন ম্যেনু

দীপন হত্যা

প্রাথমিকভাবে তিনজন চিহ্নিত

ব্লগার অভিজিতের বইয়ের প্রকাশক জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে তিনজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধরাণা কিলিং মিশনে অংশ নেয় ছয়জন।

আজিজ সুপার মার্কেটের আটটি সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ৪ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ থেকে ৩ হাজার মানুষের স্থির চিত্র তৈরি করে এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে এ ধারণায় উপনীত হয়েছেন গোয়েন্দারা।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছিল তিনজন। আর মার্কেটের নীচতলায় তিন জন পাহারা দিচ্ছিল। কিলিং মিশন শেষ হওয়ার পর সরাসরি অংশ নেয়া কিলার গ্রুপের সদস্যরা একটু দ্রুত গতিতে মার্কেট থেকে বের হয়ে যায়।

দীপনের হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে আজিজ সুপার মার্কেটের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই তিন সহযোগীদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের দুইটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থেকে তিন ঘাতক ও ঘাতকদের তিন সহযোগীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আজিজ সুপার মার্কেটের সাতটি সিসি ক্যামেরা থেকে প্রায় চার ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঘটনার সময়, বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যকার ভিডিও ফুটেজগুলো সবচেয়ে বেশি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ থেকে এই সময়ের মধ্যে মার্কেটে প্রবেশ ও বের হয়ে যাওয়া মানুষের প্রায় ৩ হাজার ছবি তৈরি করা হয়েছে। ঐ ছবিগুলো গোয়েন্দারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।

ভিডিও ফুটেজ থেকে শনাক্ত হওয়া তিন ঘাতকের চেহারার বর্ণনা দিয়ে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, তাদের পরনে ছিল শার্ট ও প্যান্ট। এদের মধ্যে একজনের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট। কারো মুখেই দাড়ি ছিল না। মার্কেটে প্রবেশ করার সময় এদের চোখের ভাষা ছিল এক রকম আর মার্কেট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় চোখের ভাষা ছিল আরেক রকম। প্রবেশের চেয়ে বের হওয়ার সময় তাদের গতিও ছিল একটু বেশি। ওই তিন জন মার্কেটের ভেতরে দুই বার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যাতায়াত করেছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আজিজ সুপার মার্কেটের সিসি ক্যামেরার বেশ কিছু ফুটেজ পেয়েছি। সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিসি টিভি ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

দীপন হত্যার প্রতিবাদে কালো কাপড়ে মোড়ানো আজিজ সুপার মার্কেট

দীপন হত্যার প্রতিবাদে কালো কাপড়ে মোড়ানো আজিজ সুপার মার্কেট

আজিজ সুপার মার্কেট সূত্রে জানা গেছে, মার্কেটে ৮টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব দিকে ১টি, পশ্চিম দিকে ১টি, বেজমেন্টে ২টি, গাড়ি পার্কিংয়ে ২টি, মূল প্রবেশ পথে ১টি এবং অফিস কক্ষে ১টি। কেউ যদি নিচতলা দিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন, তাহলে অবশ্যই তার ছবি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়বে।

গত শনিবার বিকেলে আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাগৃতি প্রকাশনীর অফিসে দুর্বৃত্তরা প্রকাশক ফয়সল আরেফীন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে। একইদিন হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করা হয় আরেক প্রকাশনী শুদ্ধস্বরের কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল। ওই হামলায় টুটুল ছাড়াও আরো দুজন জখন হন। এ দুই প্রকাশকই নিহত অভিজিতের কিছু বই তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশ করেছিলেন।

অভিজিৎ খুন হন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। অভিজিতের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বও ছিল। অমর একুশে বই মেলায় যোগ দিতে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা এসেই প্রাণ দিতে হয় তাকে।

এছাড়া আরো তিন ব্লগারকে প্রায় একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে এ বছরে। তার হলেন- অনন্ত বিজয় দাশ, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। মুক্তমতে বিশ্বাসী এই ব্লগারদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

তবে এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনটিতেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।