মেইন ম্যেনু

প্রেমিকাকে ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে প্রেমিকের টাকা ছিনতাই

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে প্রেমিকাকে ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে প্রেমিকের অ্যাকাউন্ট থেকে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে একটি অপরাধী চক্র। এ অভিযোগ করেছেন আনছার আলী নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় রোববার রাতেই একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

সোমবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এসে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ জানান।

আনছার আলী বলেন, ‘রোববার রাত ৮টায় প্রেমিকাসহ টিএসসি থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে মগবাজারের বাসায় ফিরছিলাম। শিখা চিরন্তনী পার হওয়ার পর হঠাৎ পাঁচজন ছেলে এসে আমাদের দুজনকে ঘিরে ধরে। তারা বলে দেখি ব্যাগের ভেতর কী আছে? ইয়াবা-কনডম কিছু আছে কি না? এই বলে তারা ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল, মানিব্যাগসহ সবকিছু কেড়ে নেয়।

এরপর তারা দুই-তিনটি আওয়াজ করে। পরক্ষণেই ১৫/২০ জন ছেলে চলে আসে। তারা এসেই আমার প্রেমিকাকে একদিকে আর আমাকে অন্যদিকে নিয়ে যায়। বলে, কেউ আওয়াজ করবি না। যতগুলো ছেলে আছে তোর গার্লফ্রেন্ডকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে। আওয়াজ করবি তো মরবি। তোর গার্লফ্রেন্ডও ধর্ষণের শিকার হবে। এ কথা বলেই তারা শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়।

তারা আমার মানিব্যাগ চেক করে এটিএম কার্ড পায়। ওই কার্ডের পাসওয়ার্ড জানতে চাইলে আমি তাতে অস্বীকৃতি জানাই। তারা আমার প্রেমিকাকে গণধর্ষণের হুমকি দেয়। সে কাঁদতে থাকে। আশেপাশে অনেকে থাকার পরও কেউ এগিয়ে না আসায় ভয়ে এটিএম কার্ডের পাসওয়ার্ড জানাই। পাসওয়ার্ড পাওয়ার পর তারা বলে, এটা সঠিক হলে তোরা ছাড়া পাবি। আর ভুল হলে খবর আছে। এরপর তারা দুজন টিএসসির ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে যায়।

ব্যাংকের একাউন্টে ৫৬ হাজার টাকা ছিল।সেখান থেকে তিন দফায় ৫০ হাজার টাকা তুলে নেয় তারা। টাকা তুলে নিয়ে আসার পর তারা আমার মোবাইলে বিকাশ করা আছে কিনা তা জানতে চায়। এরপর তারা বিকাশের পিন নম্বর নিয়ে ২ হাজার টাকা ‘সেন্ড মানি’ করে নেয়। আমার প্রেমিকার গলার চেইনটিও ছিনিয়ে নেয়। তারপর আমাদের ছেড়ে দিয়ে বলে, সোজা চলে যাবি। কোনো আওয়াজ করবি না। এরপর আমরা বের হয়ে শাহবাগ থানায় যাই। থানায় মামলা করতে চাইলেও ওসির নির্দেশে সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

আনছার আলী বলেন, কয়েকদিন আগে রাতের আঁধারে এভাবেই আমার এক বান্ধবীকে জিম্মি করে এটিএম কার্ড দিয়ে টিএসসির বুথ থেকে ৪০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। শাহবাগ থানায় সেটির জিডি করা হলেও এখনো কাউকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক বলেন, শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জনের ল্যাপটপ, মোবাইল ও টাকা ছিনতাই হচ্ছে। মেয়েদের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন অলংকারও কেড়ে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে এই অপরাধীরা নয়া কৌশল বেছে নিচ্ছে। তারা এখন ছেলেমেয়েদের ধরে জোর করে এটিএম কার্ড দিয়ে টাকা তুলে নিচ্ছে।

এর আগে ২০১৪ সালে একই জায়গায় সাংবাদিক এম এ রহমানের ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি মামলা হলেও পুলিশ সেটিরও কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি।

এ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ব্যাংকের কাছে ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। সেটি পেলে অপরাধী ওই গ্রুপকে চিহ্নিত করা যাবে। এ ছাড়া মোবাইল থেকে ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। সেটি ট্র্যাকিংয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি এখন নিয়মিত মামলা হবে। খুব শিগগিই অপরাধী গ্রুপকে পাকড়াও করা সম্ভব হবে।