মেইন ম্যেনু

‘প্রেমিকা’র ভয়ে বরের আত্মহত্যা

বিয়ের আগের দিনে হঠাৎই উদয় হওয়া কথিত প্রেমিকার কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এক যুবক। পরে গ্রামবাসী প্রেমিকা দাবি করা তরুণীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার আদলা গ্রামে। নিহত যুবকের নাম আব্দুর রহিম (২৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে।

আব্দুর রহিমের মোবাইল প্রেমিকা দাবি করা আটক তরুণীর নাম মলি। তিনি পাশের চারঘাট উপজেলার বাদুড়িয়া গ্রামের আজিতের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি চারঘাট উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে আব্দুর রহিমের বিয়ের কথা হয়। বর ও কনে পক্ষ আগামীকাল সোমবার তাদের বিয়ের দিন ধার্য করেন। আজ রোববার তার গায়ে হলুদ। পরিবারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। তবে শনিবার সন্ধ্যায় বিয়ের দাবি নিয়ে রহিমের বাড়িতে আসেন মলি নামের এক তরুণী। তার উপস্থিতিতেই বাধে যতো বিপত্তি।

মলির দাবি, মোবাইলে আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিল। বিয়ের করতে চেয়েছিল। সেই দাবি নিয়ে এসেছি।

মলির উপস্থিতিতে বিব্রত ও অস্বস্তিতে পড়ে সবাই। চারিদিকে শুরু হয় হৈইচৈই। পরিবারের অনেকেই মলিকে বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। মলির এক কথা, রহিমের বিয়ে অন্যের সঙ্গে হতে পারে না। এভাবেই কেটে যেতে থাকে রাত। রাতের কোনো এক সময় সবার অজান্তে রহিম বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে একটি আমের বাগানে গিয়ে এ লজ্জা থেকে বাঁচতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এদিকে আত্মহত্যার ঘটনা কানে গেলে মলি রহিমের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওইসময় গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রহিমের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

রোববার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুঠিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) আব্দুর রহমান জানান, বিয়ের দাবি করে রহিমের বাড়িতে উপস্থিত হওয়া মলি নামের ওই প্রেমিকাকে আটক করা হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।