মেইন ম্যেনু

প্রেমিকা নিয়ে হোটেলে ওঠামাত্রই ডিবি হাজির

প্রথমে মোবাইল ফোনের নম্বর আদান-প্রদান। এরপর কথোপকথনে প্রেমের সম্পর্ক। সম্পর্কের গভীরতা আসতেই নির্ধারিত ফ্ল্যাটে যাওয়ার আহ্বান। সেখানে যেতেই তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ডিবি পুলিশের আগমন। অতঃপর সুযোগ বুঝে কথিত প্রেমিকার সঙ্গে প্রেমিকের নগ্ন ছবি তুলে রাখেন কথিত ডিবি পুলিশ।

এরপর যা হওয়ার তাই। সম্মানহানি তো বটেই পরিবার কিংবা আত্মীয় স্বজনদের দেখানোর ভয় দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় শুরু। কথিত প্রেমিকার প্রেমের নামে এভাবেই সেক্স স্ক্যান্ডালের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন উঠতি বয়সের চাকরিজীবী যুবকরা।

রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাবের এক বিশেষ অভিযানে ভুয়া ডিবি পুলিশসহ সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের ছয় সদস্য আটক হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় দক্ষিণখান থানাধীন পশ্চিম ফায়দাবাদ মজিবর মার্কেটের শারমিন টেলিকমের সামনে থেকে ওই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য মো. খায়রুল আলম প্রকাশ ওরফে রবিউল (৪২), মো. পান্নু মিয়াকে (৩৫) মুক্তিপণ ও চাঁদার টাকা আদায়ের সময় হাতেনাতে আটক করে র‌্যাব-১ এর একটি আভিযাত্রিক দল।

পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অপর সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম নিলয় (২৫), মো. খাইরুল ইসলাম মনির (৩২), শামীমা আক্তার তৃষ্ণা (২৭), উম্মে তাসনিন ইভাকে (১৯) উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৬ নং সেক্টরস্থ হাউজ বিল্ডিংয়ের পাশে উত্তরা গার্লস হাইস্কুলের সামনে থেকে আটক করে র্যাব।

এসময় তাদের কাছ থেকে হ্যান্ডকাপ, পুলিশের তিনটি আইডি কার্ড, ব্ল্যাকমেইলের কাজে ব্যবহৃত গোপন ক্যামেরা, ভিকটিমের চারটি আপত্তিকর ছবি, নগদ ২২ হাজার ৪শ’ ৫০ টাকা ও নয়টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার এসব জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে উঠতি বয়সের চাকরিজীবী কিংবা বিত্তবান মধ্য বয়সী পুরুষদের টার্গেট করে সেক্স স্ক্যান্ডালের ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সাধারণত রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় এই অভিনব পদ্ধতিতে প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। চক্রের নারী সদস্যরা বিভিন্ন অফিস, বাসস্ট্যান্ড, মার্কেট ও খাবারের দোকানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে।

পরবর্তীতে ছলনার মাধ্যমে মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান করে এবং পরে মোবাইলে কথপোকথনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্পর্ক কিছুটা গভীর হলে এক পর্যায়ে পূর্ব নির্ধারিত ফ্ল্যাটে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে যায় এবং অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। নির্ধারিত সময়েই কথিত ডিবি পরিচয়ে আরো কয়েক প্রতারক সদস্য সেখানে হাজির হয়। ডিবি পুলিশের আকস্মিক আগমনে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে ভুক্তভোগী।

ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে প্রেমিককে মারধর, কথিত প্রেমিকার সঙ্গে নগ্ন ছবি তুলে প্রচারের ভয় দেখিয়ে নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় শুরু করে।

র‌্যাব-১ সিও আরো জানান, কখনো ওই একই নারীকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে দেহব্যবসা গড়ে তোলে। কখনো কখনো এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন পণ্যের সেলস এজেন্ট হিসেবে বিভিন্ন অফিসে গিয়ে বাছাইকৃত ব্যক্তিবর্গের নম্বর সংগ্রহ করে ওই চক্রের নারী সদস্যদের মাধ্যমে ফোনে সম্পর্ক গড়ে তোলে। সস্পর্ক গড়ার পর একইভাবে তাদের বাসায় নিয়ে জিম্মি করে প্রতারণার মাধ্যমে সর্বস্ব লুট করা হয়।

লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, আটককৃত শামীমা আক্তার তৃষ্ণাকে পান্নু মিয়া চাকরির কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরে খায়রুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে অপরাধ জগতে প্রবেশ করানো হয়।

আটককৃত সাইফুল ইসলাম ও উম্মে তাসনিন ইভা স্বামী-স্ত্রী এক সময় এমএলএম ব্যবসা করলেও পরবর্তীতে অর্থলোভের বশবর্তী হয়ে এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। আটককৃতদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।