মেইন ম্যেনু

প্রেমিকা ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চায় এই যুবক! অতঃপর একি হলো…

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতা ধর ব্যক্তি। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছেই মানুষের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এধরনের কোনো কিছু কেউ চাইবে হয় তো প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নেও কোনদিন তা কল্পনা করেননি। তেমনি এক দাবির পোস্টার নিয়ে সোমবার দিনভর সোনারগাঁও হোটেলের কাছে সার্ক ফোয়ারার সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলো সালেহ নামের এক যুবক।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এই সড়কে সে সময় চলাচলকারী গাড়ীর যাত্রীরা অনেকেই অবাক হয়েছেন এই ধরনের পোস্টার দেখে। সালেহ-এর হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল ফিরিয়ে দেওয়া আমারই প্রেম তুমি এভাবে চলে যেওনা। শাফিন আহম্মেদের এই গানের একটি কলির কিছু অংশ ‘ফিরিয়ে দাও আমারই প্রেম তুমি এভাবে চলে যেওনা।’

তবে পোস্টারের শুরুতে লেখা ছিল-‘হে মহান প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক জানতে চাই কোন অপবাদে আমার উপর এই ডিজিটাল যুগে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরতা চালানো হচ্ছে। আপনি নিজ উদ্যোগে এর সমাধান না করবেন আমি বাসায়ও পিরবোনা (ফিরবোনা) আর এক ফোঁটা পানিও পান করবো না। হে দেশরত্ন দেশের আইন কি সব নারীর জন্য?’

বিকেল যতই ঘনিয়েছে কৌতুহলী মানুষের সংখ্যা ততই বেড়েছে। তখন এই পথে যাতায়াতকারী একজন সাংবাদিক তার পরিচয় দিলে তিনি বলেন, তার নাম সালেহ আহমেদ। বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন। কুমিল্লা কমিউনিকেটিভ কম্পিউটিং ফর নেক্সট জেনারেশন নামক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র তিনি। বাড়ি লাকসাম। কি সমস্যা নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি পরিবার আমাকে দুই বছর যাবত হয়রানি করছে। মানসম্মান, টাকা পয়সা, লেখাপড়া কেড়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, ওই পরিবারে সুনয়না (ছদ্মনাম) নামের একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়েছিল। মেয়েটি তাকে ভীষণ ভালোবাসতো, সেও মেয়েটিকে খুব ভালোবাসতো। মেয়েটির বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগড়ায়। সে লাকসামে এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলেই তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরবর্তীতে সে চট্টগ্রামে নানীর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সুনয়নার সঙ্গে দেখা করে।

সালেহর দাবি করেন, মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা তাদের মেয়েকে তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে প্রথমে বাধা দেয়নি। বিভিন্ন সময় মেয়েটির মাধ্যমে অর্ধলাখ টাকাও নিয়েছে। এক পর্যায়ে তার (সালেহর) পরিবারে জানাজানি হলে বাবা-মা প্রথমে আপত্তি করে। এরপর যদিও মেনে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যান। এর কিছুদিন আগে সুনয়নার জন্য একজন ইতালি প্রবাসী ছেলের বিয়ের প্রস্তাব আসে। এরপর সালেহর পরিবার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে মেয়ে পক্ষ সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর তিনি সুনয়নার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের প্রচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন।

এদিকে মেয়ের বাবা-মা এখন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছে। কয়েকমাস আগে ওয়ারিতে দুঃসম্পর্কের এক ভাইয়ের বাসায় এসে আশ্রয় নেন সালেহ। পরে দুইমাস চাকরি করলেও তার মন সব সময় সুনয়নার কাছে পড়ে থাকায় চাকরি ছেড়ে দেন।

আবারো যোগাযোগের চেষ্টা করলে মেয়ের পরিবার হুমকি দিতে থাকে। এ কারণে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমেই তিনি প্রেমিকাকে ফিরে পেতে চান। প্রধানমন্ত্রী তার বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ না করা পর্যন্ত ফিরে যাবেন না।