মেইন ম্যেনু

“প্রেমিক আমার সন্তানকে কিছুতেই মেনে নিচ্ছে না, এখন কী করব…?”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানিয়েছেন নিজের সমস্যার কথা।

“আমার বিয়ে হয়েছে ৯ বছর হল। ভালোবাসার বিয়ে ছিলো। ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয় পরিবারের সম্মতিতে। বিয়ের পর আমার স্বামীর ব্যবহার বদলাতে থাকে। জানতে পারি ওর মানসিক সমস্যা আছে। এটা ওদের বংশগত সমস্যা। ঘুমের ঔষধ ছাড়া ঘুমাতে পারেনা। ওর সাথে তেমন শারীরিক সম্পর্ক ছিলো না। তারপরও আমার একটি সন্তান হয় বিয়ের দুই বছর পর, কিন্তু সে মারা যায়। আমার স্বামী আর তার পরিবার এর জন্য আমাকে দায়ী করে। আমার আর আমার স্বামীর মাঝে একটা গ্যাপ তৈরী হয়। ও সারাদিন ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর রাতে এসে ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমায়। আমরা এক ঘরে থেকেও আলাদা।

আমি ভাবলাম আবার একটা সন্তান হলে হয়ত আমার সময় কেটে যাবে। তাই একটা সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলাম। ২০১০ সালে আমার একটি মেয়ে জন্ম নেয়। ওকে নিয়ে আমার নতুন জীবন শুরু হল। আমি অনেক সুখী ছিলাম। আমার মেয়ের বয়স যখন ২ বছর তখন আমার বাবার বাড়ির পাশের একটি ছেলের সাথে রঙ নম্বরে আমার পরিচয় হয়। আমার ওর সাথে কথা বলতে ভালো লাগত। ও দেখতে খুব ভালো। ধীরে ধীরে ওকে আমার ভালো লাগতে শুরু করলো। এক মাস পরই ও আমাকে প্রপোজ করলো। আমি কোন সম্পর্ক চাইনি, বন্ধুত্ব চেয়েছিলাম। কিন্তু ভাবলাম না করলে যদি কথা বলা বন্ধ করে দেয়, তাই হ্যাঁ বললাম। আমি আমার জীবনের কোন কথা ওকে লুকাইনি। ও অনেক ভালো। আমাদের সম্পর্কটা অনেক গভীর হয়ে যায়। প্রায় সময় আমরা রুম ডেট করি।

আমি ওকে প্রচন্ড ভালোবেসে ফেলেছি। সে-ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমরা বিয়ে করতে চাই। আমার স্বামী আর তার পরিবার বিষয়টা জানতে পারে। সবার সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ এখন। অনেক কষ্টে যোগাযোগ করি। ওকে ছাড়া এক দিনও থাকতে পারিনা কিন্তু ও আমার মেয়েকে মেনে নিবেনা। আমার মেয়েকে দেখলে ওর আমার অতীতের কথা মনে পড়ে তাই। আমি ওকে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু ওর একটাই কথা, হয় সে না হয় মেয়ে, যেকোন একটা বেছে নিতে হবে। আমার মেয়ের বয়স এখন ৫ বছর। এতটুকু মেয়ে আমাকে ছাড়া কী করে থাকবে? আমিই বা কী করে থাকবো? আর আমার প্রেমিক অন্য কাউকে বিয়ে করলেও আমি সহ্য করতে পারবোনা। আমার কাছে মাত্র ২ মাস সময় আছে। ও বিয়ে করে ফেলবে যদি আমি আমার মেয়েকে রেখে না যাই।

আমি কী করবো এখন? আমি দুইজনকেই অনেক ভালোবাসি। আমি অনেক খারাপ অবস্থায় আছি। কিছুই ভালো লাগেনা। দয়া করে একটা সমাধান দিন।”

পরামর্শ:

আপু, সত্যি বলতে কি আপনার এই প্রেমিককে আমার খুব একটা ভালো মানুষ মনে হচ্ছে না, যদিও আপনি লিখেছেন যে তিনি খুব ভালো। আপনার স্বামীর সাথে যদিও আপনার প্রেমের বিয়ে, তারপরও সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না, এটা বোধগম্য। অনেকের সাথেই এটা হয়। আপনার সন্তানের মৃত্যুর ব্যাপারে যেহেতু বিস্তারিত জানি না, তাই বুঝতে পারছি না আদৌ আপনার কোন দোষ আছে কি নেই। কিন্তু এটা বুঝতে পারছি যে স্বামীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা না করে পরকীয়ায় জড়িয়ে আপনি অহেতুক সমস্যায় জড়িয়ে ফেলেছেন নিজেকে। আমি বুঝলাম যে ছেলেটির আপনাকে ভালো লেগেছে, তাই অন্যের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও প্রপোজ করেছে। কিন্তু অন্যের স্ত্রীর সাথে “রুম ডেট” করে তিনি কিন্তু মোটেও উন্নত মানসিকতার পরিচয় দেন নি। আর সবচাইতে বড় কথা, কাউকে ভালোবাসার অর্থ তাঁর সবকিছুকেই মেনে নেয়া, যেটা এই ছেলেটি করছে না। একজন ভালো মানুষ কীভাবে একজন মালে বলেন যে ছোট্ট সন্তানকে ফেলে রেখে যেতে? ভালো মানুষ হলে তো এটা বলতে পারার কথা নয়। আর সন্তান ফেলে গেলেই কি আপনার অতীত মুছে যাবে? যাবে না। এই ছেলেটিকে বিয়ে করলে পদে পদে নিজের অতীতের কারণে সমস্যা তৈরি হবে আপনাদের মাঝে। অন্তত আমার তাই ধারণা।

একজন মায়ের দায়িত্ব নিজের আগে সন্তানের চিন্তা করা, অন্তত আমি সেটাই মনে করি। আপনার বাচ্চাটি খুব ছোট, নিজের সুখের কথা ভেবে এইটুকু বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে যাওয়া আপনার মোটেও উচিত হবে না। বাচ্চার বাবা হয়তো আবার বিয়ে করবেন, বাচ্চার জীবন কাটবে সৎ মায়ের কাছে অনাদরে। আপনি কি সেটাই চান? আবার আপনার প্রেমিকের সংসারে গেলেও বাচ্চাটি অনাদর আর অবহেলার শিকার হবে। সেটাও এইটুকুন বাচ্চার জন্য মোটেও ভালো হবে না। বাচ্চার জন্য যা ভালো হবে, সেটা হচ্ছে আপনি স্বামীর সাথে সম্পর্ক ঠিক করে ফেলুন। আপনার স্বামী তো আর বাইরে পরকীয়া করেন নি। তাই স্বামীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার জোড়া লাগানোর কথা বলুন। বাচ্চার কথা ভেবে স্বামী রাজি হলেও হতে পারে। আমি অন্তত আপনার স্থানে হলে এটাই করার চেষ্টা করতাম যদি বাচ্চার ভালো চাইতাম।

আর স্বামী যদি রাজি না হন, তাহলে ডিভোর্স নেয়া ছাড়া উপায় নেই। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে এমন কাউকে করুন, যিনি আপনার সন্তান ও অতীত সহ আপনাকে গ্রহণ করবেন, আপনাকে ভালবাসবেন ও বাচ্চাটিকে আদরে লালন করবেন। এমন বড় মনের পুরুষের অভাব নেই। প্রেমিককে বিয়ে করলে আপনিও কষ্ট পাবেন, বাচ্চাও পাবে। জীবনে সমস্যা আরও বাড়বে। অন্তত আমার তাই মনে হয়।

আর আপু, ঘুমের ওষুধ ছাড়া ঘুমাতে পারেন না, এটা কোন মানসিক সমস্যা না। অনেকেরই অনিদ্রা রোগ থাকে। আমার নিজেরও আছে। একজন ব্যবসায়ী পুরুষের হরেক রকমের দুশ্চিন্তা থাকতেই পারে। সেটার অর্থ এই নয় যে তিনি মানসিক রোগী।প্রিয়.কম