মেইন ম্যেনু

প্রেমের টানে সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে বিয়ানীবাজারে ছুটে এলেন ইফা রায়ান

ভালবাসা মানে না জাত-কুল, মানে না ধর্ম-বর্ণ, দেশ-বিদেশ। তেমনি এক নিখাদ ভালবাসার টানে সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে বিয়ানীবাজারে ছুটে এলেন ইফা রায়ান। যথারীতি বাঙালির নারীর বিয়ের চিরায়িত রূপ লাল বেনারসি শাড়ি পরে বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে। হাতে ছিল তার মেহেদির রং, মুখ ছিল হাস্যোজ্জ্বল। পার্লারের বিউটিশিয়ানরা একজন সত্যিকার বাঙালি বধূর বেশে মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজিয়েছেন ইফা রায়ানকে।

গতকাল দুপুরে স্থানীয় বারইগ্রাম বাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ভালবাসার জন্য উড়ে আসা ইফা রায়ানের সঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলার ঘুঙ্গাদিয়া (হিলু টিল্লা) গ্রামের বাসিন্দা তাজ উদ্দিনের পুত্র আয়ারল্যান্ড প্রবাসী মাহবুবুর রহমানের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের অনুষ্ঠানে ইফার মা ক্যাটরিনা রায়ান, বাবা জন রায়ান ও ভাই অউন রায়ানসহ উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও অসংখ্য আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। বিয়েতে বরপক্ষ থেকে কনেকে অন্তত ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উপহার দেয়া হয়। কনে ইফা যখন কবুল বলেন তখন পুরো কমিউনিটি সেন্টার জুড়ে কয়েক মিনিট করতালির মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

জানা যায়, ২০০৯ সালের দিকে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আয়ারল্যান্ডে পাড়ি জমান বিয়ানী বাজারের মাহবুবুর রহমান। সেখানে আয়ারল্যান্ডের কিলকেনি থমাস টাউন এলাকার অধিবাসী জন রায়ানের মেয়ে ডা. ইফা রায়ানের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। পরিচয় থেকে প্রেম। তারপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে ভালবাসার পানসি করে ইফা সপরিবারে মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে চলে আসেন বাংলাদেশে। মাহবুবুর রহমান সেখানে একটি ব্যাংকে কর্মরত এবং ইফা রায়ান ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

নববধূ ইফা রায়ান জানান, পরিবারের সম্মতি নিয়ে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে ভালবাসার মানুষের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছি। তিনি তার স্বামীর জন্য সবার কাছে দোয়া চান। এদিকে মাহবুবুর রহমান তার স্ত্রীর মুখপানে চেয়ে স্মিত হাসিতে কবিতার ভাষায় বলে উঠলেন- ভালবেসে নিয়ে যেও সখী, জীবন এপার থেকে মরণের ওপারে।