মেইন ম্যেনু

প্রেমের ফাঁদে পড়ে শারীরিক সম্পর্ক : ৫ মাসের অন্তঃসত্তা তরুণী এখন বিপাকে

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রেমের ফাঁদে পড়ে সর্বনাশ হয়েছে এক যুবতীর। সে এখন ৫ মাসের অন্তঃসত্তা। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পাচ্ছে না মেয়ের পরিবার।

২০ বছর বয়সী এই হতভাগ্য মেয়েটি ডামুড্যা উপজেলার দারুল আমান ইউনিয়নের। ওই ইউনিয়নেরই গোয়াখোলা গ্রামের খলিল শিকদারের ছেলে ইলেক্ট্রিক্স মিস্ত্রী মোসলেহ উদ্দিন শিকদার (২২) প্রায় ১ বছর আগে মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এবং বিয়ের প্রলোভনে গড়ে তোলে শারীরিক সম্পর্ক। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় থাকলে মোসলেহ উদ্দিন তার পরিবারকে বিয়েতে রাজি করাতে পারবেন বলে মেয়েটিকে আশ্বাস দেয়। ৫ মাস পার হয়ে গেলেও মেয়েটিকে বিয়ে না করায় বাধ্য হয়ে মেয়ের পরিবার অন্তঃসত্তার বিষয়টি মোসলেহ উদ্দিনের পরিবারকে জানান।

মোসলেহ উদ্দিনের পরিবার বিয়ের ব্যবস্থা না করে উল্টো মেয়েটির পরিবারকে পেটের বাচ্চা ফেলে দেওয়ার জন্য স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে প্রথমে ২ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। মেয়েটির পরিবার রাজি না হয়ে মোসলেহ উদ্দিনের চাচা ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিন্টু শিকদারকে জানান।

চেয়ারম্যান মিন্টু শিকদার স্থানীয় সোনামিয়াকে বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব দেন। সোনা মিয়াও ছেলের পক্ষ হয়ে বাচ্চা নষ্ট করার জন্য ৫০ হাজার টাকা মেয়ের পরিবারকে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু মেয়েটি তার গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয় চান।

স্থানীয়দের ধারণা, মোসলেহ উদ্দিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিন্টু শিকদারের চাচাতো ভাতিজা হওয়ার কারণে সঠিক বিচার পাচ্ছে না। বরং স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

মেয়ের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা গরীব বলে আমার মেয়ের সর্বনাশ করে এখন মোসলেহ উদ্দিনের পরিবার মেনে নিতে চাইছে না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

মেয়েটির চাচি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাইতে গেছিলাম। চেয়ারম্যান সোনামিয়া শিকদারকে বিষয়টি মীমাংসার জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। সোনামিয়া শিকদার বাচ্চা নষ্ট করার জন্য আমাদের টাকা দেয়ার প্রস্তাব করেছে। আমরা তাতে রাজি হইনি। আমরা আমাদের মেয়ে ও তার গর্ভের বাচ্চার অধিকার চাই।’

দারুল আমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিন্টু শিকদার বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। আমার কাছে লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেব।’

গোসাইরহাট সার্কেল এএসপি সুমন দেব বলেন, ‘মেয়েটির পরিবার আমার কাছে আসলে থানায় মামলা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। থানায় মামলা হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’