মেইন ম্যেনু

প্রেমের বিয়ে, তবুও যৌতুকের জন্য নির্যাতন

লালমনিরহাট: ২০২০১২ সালে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইসএসসি পাশের পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হন নাহিদ নিগার মেঘনা। তার আগেই ভালোবেসে ফেলেন সহপাঠী রেজাউল আলম সুজনকে। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে বিয়েও করেন তাকে। কিন্তু স্বামীর ভালোবাসা তো দূরে থাক সহানুভূতিও জোটেনি তার কপালে। উপরন্তু যৌতুকের জন্য স্বামীর পিটুনিতে পা ভেঙে এখন হাসপাতালে মেঘনা।

বুধবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মেঘনা এভাবেই পাষণ্ড স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতায় এখনও মেধাবী ছাত্রী হিসেবে নাম থাকা নাহিদ নিগার মেঘনার বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেঘনা জানান, পার্শ্ববর্তী উত্তর পারুলিয়া গ্রামের নুরল ইসলামের ছেলে রেজাউল আলম সুজনের সঙ্গে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজে পড়ার সময় তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২০১২ সালে এইসএসসি পাশের পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হন তিনি। আর সুজন ভর্তি হন রংপুরের প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি নামে একটি বেসরকারি কলেজে।

তিনি জানান, সেখানে পড়াশোনা শুরুর কিছুদিন পর সুজন তাকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। নইলে আত্মহত্যা করবে বলে ভয় দেখায়। শেষ পর্যন্ত পড়ালেখার খরচের দায়িত্ব নিয়ে ২০১৩ সালে জানুয়ারিতে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা দেনমোহর ধার্য করে নোটারি পাবলিকে বিয়ে করেন তারা। কিছুদিন পর ওই বছর ডিসেম্বরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আওতায় হাতীবান্ধা পাটিকাপাড়া ইউপি পরিদর্শকের সরকারি চাকরি পান সুজন। চাকরি শুরুর পর তাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে আসেন সুজন।

মেঘনা আরও জানান, পড়াশোনার খরচ বন্ধ করে দিলে ২০১৪ সালের মে মাসের পর আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি তার। শুধু তাই নয় কয়েক মাস আগে কাজী ডেকে জোরপূর্বক সাক্ষর নিয়ে নতুন করে বিয়ে রেজিস্ট্রিও করেন সুজন। তাতে রোটারি পাবলিকে তোলা পাঁচ লক্ষাধিক টাকার দেনমোহর কমিয়ে এনে দুই লাখ টাকা করা হয়। এ সময় যৌতুক হিসেবে তার পরিবারের কাছে দাবি করা হয় একটি পালসার মোটরসাইকেল ও ১০ লাখ টাকা। কিন্তু দিতে না পারায় তার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।

সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে সুজন-মেঘানার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুজনের বেধড়ক পিটুনিতে মেঘনার পা ভেঙে যায়। নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায় তার। পরে শ্বশুড় বাড়িতে অসুস্থ মেঘনাকে পরিবারের লোকজন এসে উদ্ধার করে মঙ্গলবার বিকেলে হাতীবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করে।

মেঘনার পাশে থাকা মা আফরোজা বেগম জানান, সুজন শুধু তার মেয়ের উজ্জল ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়নি। এখন যৌতুক না পেয়ে মেয়েটাকে দিনের পর দিন নির্যাতন করে মেরে ফেলতে চাইছে।

মেঘনার বাবা মতিয়ার রহমান জানান, সুজনের হাতে তার মেয়ে মেঘনা অনেক অত্যাচর সহ্য করে এসেছে। তাই এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

মেঘনার স্বামী সুজন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কখনও শাসন করতে হলে তিনি শুধু মেঘনাকে চড় থাপ্পড় দিতেন।

তবে নতুন করে বিয়ে রেজিস্ট্রি করে দেনমোহর পাঁচ লাখ থেকে দুই লাখ টাকায় কমিয়ে আনাসহ পড়াশোনা করতে না দেয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন তিনি।

এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রমজান আলী জানান, মেঘনার ডান ও বাম পায়ের হাড় চটে গেছে। তার পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান ঘটনাটি শুনেছেন তবে এখনও তার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।