মেইন ম্যেনু

পড়ানো বাদে উকুন তোলা, অবশেষে স্কুলে তালা!

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধ): ‘সকাল সকাল স্কুল খোলো, পড়া তো নাই তাই উকুন তোলো’…এমন কবিতা কেউ লিখেছেন কিনা তা জানা যায়নি। তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো কোনো বিদ্যালয়ে যে পড়ানো বাদ দিয়ে ছাত্রীদের দিয়ে শিক্ষিকারা উকুন তুলে নেন, তার প্রমাণ মিলেছে।

শুধু কি উকুন তোলাতেই থেমে থাকেন ওইসব শিক্ষিকা? শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্কুলের টয়লেট থেকে শুরু করে ভাতের নোংরা প্লেট পরিস্কারসহ বিদ্যালয় ঝাড়ু দেয়ার কাজও করানো হয়। আর এসব কাজ না করলে নেমে আসে তাদের ওপর নির্যাতনও।

কোমলমতী শিশুদের দিয়ে এসব কাজ করে নেয়ানোয় অবশেষে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবক আর এলাকাবাসী। তারা অভিযুক্ত শিক্ষিকাদের অপসারণ ও বিচার দাবি ক্লাসরুম ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

বুধবার দুপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শিমুলিয়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হচ্ছেন- প্রধান শিক্ষিকা ফুয়ারা আবেদিন, সহকারী শিক্ষিকা রেহেনা বেগম ও নাজমা বেগম। তাদের অপসারণ ও বিচার দাবি করেছেন অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক রবিউল ইসলাম ও শাহাদৎ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষিকা ফুয়ারা আবেদিন, সহকারী শিক্ষিকা রেহেনা বেগম ও নাজমা বেগম কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিদ্যালয়ের টয়লেট পরিস্কার করান। এ ছাড়া ওই শিক্ষকদের দুপুরের খাওয়ার পরে প্লেট পরিস্কার ও অফিস কক্ষ ঝাড়ু দিতে হয় শিক্ষার্থীদের।’

অভিভাবক রবিউল ইসলাম ও শাহাদৎ হোসেন আরো অভিযোগ করেন,‘শুধু এসব কাজই নয়, ওই তিন শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের দিয়ে তাদের মাথার উকুনও তুলে নেন। শিক্ষার্থীরা তাদের আদেশ না মানলে কিংবা টয়লেট, প্লেট পরিস্কার ও মাথার উকুন তুলে না দিলে তাদের উপর নির্যাতনও চালানো হয়।’

আরেক অভিভাবক মমিন মিয়া জানান, শিক্ষকদের কথা মতো তাদের কাজ না করে দিলে শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়। এমনকি সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থীদের মারধর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়ারও ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করছেন।

শিক্ষার্থী মুছা মিয়া ও জাহিদ হাসান জানায়, ‘প্রায়ই স্কুলের টয়লেট পরিস্কার করতে হয়। এছাড়া তিন ম্যাডামের দুপুরের খাবার পর প্লেট পরিস্কার করতে হয়’।

আরেক ছাত্রী জাহাজাদি আকতার বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন ছাত্রীদের দিয়ে ম্যাডামরা তাদের মাথার উকুন তুলে নেন। কিন্তু তাতে রাজি না হলে ম্যাডামরা আমাদের মারপিট করেন’।

এদিকে, বিদ্যালয় চত্বরে বুধবার দুপুরে ক্লাস্টারের আলোচনা সভা হওয়ার কথা ছিল। তবে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর চাপের মুখে তা করতে পারেননি। ওই সময়ে পলাশবাড়ী উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এটিএম জাকির হোসেন ও পলাশবাড়ী উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইনস্ট্রাক্টর সোহেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সেখানে সরেজমিনে যান। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইনস্ট্রাক্টর সোহেল মিয়া অসাদচরণ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফুয়ারা আবেদিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি রাজি হননি। এসময় অন্য শিক্ষকরাও সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

পলাশবাড়ী উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম জাকির হোসেন জানান, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।