মেইন ম্যেনু

পড়ার জন্য ৫ বছর পুরুষ রুপে ছদ্মবেশ ধারণ

পড়শোনার জন্য পাঁচ বছর ছদ্মবেশে পার করলেন আফগান তরুণী বসজি রাসিখ।

কারণ তালিবানদের রক্তচক্ষু আর সন্দেহ সব সময় পিছু তাড়া করত ছোট্ট সাবানা বসজি রাসিখকে। আফগানিস্তানে তখন তালিবান যুগ।

সে যুগেরর একটাই মন্ত্র, মেয়েদের পড়াশোনা হবে না৷ কিন্ত্ত তা সত্ত্বেও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন রাসিখ৷ গোপন স্কুলে তিনি আর তাঁর বোন কখনও পুরুষের পোশাকে, কখনও মুদির দোকানের থলিতে বই লুকিয়ে নিয়ে গিয়েছেন৷ সাক্ষাত যমের মুখে দাঁড়িয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সাবানা এখন ২৫ বছরে পা দিয়েছেন৷ খুলেছেন নারীদের জন্য দেশের একমাত্র বোর্ডিং স্কুল৷ শিক্ষায় সমৃদ্ধশালী একটি রাষ্ট্র গঠনই তাঁর লক্ষ্য৷

যিনি বিশ্বাস করেন, নারী শিক্ষা ছাড়া যে স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে যাবে৷ আফগানিস্তানে তালিবান রাজ শেষ হয়েছে ২০০১ সালে৷ রাসিখের স্বপ্ন সফল হয়েছে৷ তৃন্ত গলায় তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে নারীদের শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ অর্ধেক নারীর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি৷

দেশে একটা যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছি আমরা৷’ তালিবান শাসনের পর দেশে লক্ষ লক্ষ নারীরা স্কুলে আসছেন৷ কিন্ত্ত তাও নারী শিক্ষা এখনও অনেকটাই অন্ধকারে৷ শিক্ষিকার অভাবকেই এর সব চেয়ে বড় কারণ বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত রাসিখ৷ উচ্চ শিক্ষার জন্য মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমিয়ে রাসিখ গড়ে তুলেছিলেন স্কুল অফ লিডারশিপ আফগানিস্তান (সোলা)৷

তাঁর লক্ষ্য ছিল, আফগান যুব সম্প্রদায়ের কাছে বিদেশে শিক্ষার সুযোগ এনে দেওয়া৷ আজ সেই সোলার ছাত্রীর সংখ্যা ২৫৷

একই সঙ্গে কমপক্ষে ৪৫ জন্য আফগান ছাত্রীকে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডায় পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে সোলা৷ মঙ্গলবার নারীর সমানাধিকার সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় অতীতকে স্মরণ করছিলেন জীবনের যুদ্ধে জিতে যাওয়া রাসিখ৷ তিনি বলেন, ‘আমার বাবাই চেয়েছিলেন আমি পড়াশোনা করি, স্কুলে যাই৷

এমনকী জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও তালিবানি যুগেও তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি৷ আজ বাবার কথা বড় মনে পড়ছে৷’