মেইন ম্যেনু

পড়াশোনা ক্লাস এইট, কিন্তু দামি ডাক্তার!

ক্লাস এইট পাস করে কি করে দামি ডাক্তার হবেন? এটা কেউ বিশ্বাস করতে পারে? বিশ্বাস না করলেও ঘটনা কিন্তু একেবারে সত্যি।

তবে শুনন সেই কথা। গ্রামের লোকজনের কাছে ইলিয়াস টপ্পো দামি ডাক্তার। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েই চিকিৎসায় বেশ প্রসার জমিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের পানবাড়ির ইলিয়াস টপ্পো! অভ্যাসবশত গড়গড় করে ইংরেজিতে ওষুধের নামও লিখে দেন তিনি।

কীভাবে চিকিৎসক হলেন?

শুরুটা অবশ্য হয়েছিল কাজের তাগিদেই। কখনো ভাবেননি ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হবেন ইলিয়াস টপ্পো। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ে পয়সার তাগিদেই ভিনরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি।

সেখানে দীর্ঘসময় কাটানোর পর গ্রামে ফিরে আসেন। এ বয়সে কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না তিনি। দিশেহারা ইলিয়াস বাবুকে চিকিৎসক দাদার কাছে শহরে পাঠান তার বাবা।

সেখানে টানা পাঁচ বছর ধরে কম্পাউন্ডারের কাজ শেখেন। এরপর গ্রামে ফিরে আসেন ইলিয়াস। টাকার তাগিদে শুরু করেন চিকিৎসা।

ধীরে ধীরে নাম হয় তার। গ্রামে সেরকম কোনো পেশাদার চিকিৎসক না থাকায় হাতের প্যাঁচ হিসেবে তাকেই ডাকে লোকজন। এভাবেই ইলিয়াস বাবুর প্রসার ঘটে। চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এলাকায় কোনো ডাক্তার, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় আমরা ইলিয়াস বাবুর কাছে যাওয়া শুরু করি। বিভিন্ন রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে ওষুধ দিতে পারদর্শী তিনি। অনেক উপকার পেয়েছি বলেই তার কাছে আসি।

এ ব্যাপারে ডাক্তার ইলিয়াসের বক্তব্য, সাধ্যমতো রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। রোগ নির্ণয় করে ওষুধ দিই। সেলাই করা, ইঞ্জেকশন দেয়া, স্যালাইন দেয়া এসব দক্ষতার সঙ্গেই করছি।

তিনি জানান, আজ পর্যন্ত কোনো অসুবিধা হয়নি। তবে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য আলিপুরদুয়ারে রেফার করে দিই।