মেইন ম্যেনু

ফখরুল চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন

নাশকতার তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখায় তিনি বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ফখরুল শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। আদালতের জামিন আদেশ পাওয়ায় পর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন।’

সুপ্রিমকোর্টের আদেশের পর আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।

এদিকে ফখরুলের জামিনের বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুরাদ রেজা বলেন, ‘এই আদেশের ফলে আমি মনে করি ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু চিকিৎসা সেবা ছাড়া অন্য কোনো অ্যাক্টিভিটিসে তার জড়ানোর সুযোগ নেই।’

নাশকতার তিন মামলায় সুপ্রিমকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে আগামী ছয় সপ্তাহ পর তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়। রোববার বিকেলে ফখরুলের স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। সে প্রতিবেদনটি আদালত আমলে নিয়ে ফখরুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য এ জামিন আদেশ দেয়া হয়।

আজ আদালতে ফখরুলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুরাদ রেজা।

পল্টন থানায় করা পৃথক তিন মামলায় গত ২১ জুন হাইকোর্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন আদালত। সে আদেশের স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার বিচারপতির কাছে গেলে, চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।

ফখরুলের এ আবেদনের ওপর শুনানি করে সোমবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন।

ছয় মাস ধরে কারাবন্দি ফখরুল বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন। ফখরুল অসুস্থ হয়ে পড়লে আদালতের নির্দেশে গত ১৩ জুন তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

চলতি বছর বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে আটক করে তাকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বিচারিক আদালতে এসব মামলায় জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে যান ফখরুলের আইনজীবীরা। এর মধ্যে পল্টন থানায় গাড়ি পোড়ানো, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের এক মামলায় গত ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পান মির্জা ফখরুল।

এরপর পল্টন থানার দু’টি এবং মতিঝিল থানার এক মামলায় ১৮ জুন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত ফখরুলকে জামিন দেন হাইকোর্ট।

আর পল্টন থানার অন্য তিন মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর হয় গত ২১ জুন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ আদেশ স্থগিতে আপিল বিভাগে গেলে সেখানেও ফখরুলের জামিন বহাল থাকে। বর্তমানে ২১ জুনের আদেশের বিষয়টি আপিল আদালতের বিবেচনাধীন।