মেইন ম্যেনু

ফরমালিনের নীরব আতংকে ভোলা জেলাবাসী

ফরমালিনের নীরব আতংকে ভাসছে ভোলার জনপদ। মধু মাসের আম, কাঠাল, আনারসসহ বিভিন্ন কাচাঁ মালেও ব্যবহার হচ্ছে ফরমানিল নামের বিষ। এখন পর্যন্ত ভোলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রশাসন কর্তৃক ফরমালিন বিরোধী কোন অভিযান না হওয়ায় সাধারণ লোকজনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। বিশেষ করে জেলা শহরসহ প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ছেয়ে গেছে ফরমালিন মিশ্রিত আমে। এসব আম মানব দেহের জন্য চরম ক্ষতিকর ।

প্রতিটি ফলের দোকান ও ফুটপাতে আমের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ফরমালিন মিশ্রিত এ আমের রং এতটাই আকর্ষনীয় যে, রংয়ে আকৃষ্ট হয়ে ক্রেতারা কিনছেন এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। আর স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর এ আম বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে এখনও ভোলার প্রশাসনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সচেতনমহলে, সেই সঙ্গে বিষ মেশানো এসব আম খেয়ে ক্রেতারা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এসব আম খাওয়ার ফলে ফরমালিন বিষক্রিয়া শুরু হলে তা ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রবেশ করে কোষগুলিকে নিস্ক্রিয় করে দেয় এবং ক্ষুধা মন্দা, নিন্দ্রাহীনতা, লিভারে সমস্যা, ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভোলা জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রতিটি হাটবাজারে হলদে-লাল টসটসে রংয়ের দেখতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এ আকর্ষনীয় আম ।

ভোলায় পৌর শহরের স্থায়ী বিক্রেতাদের পাশাপাশি বহিরাগত বহু দোকান বসেছে। এদিকে আম গুলি দেখতে খুব আকর্ষনীয় হলেও খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কার্টুন ভর্তি করে ফরমালিন মিশ্রিত করে পাকানো হয়েছে এই আম গুলি , যা দেখে সহজেই বোঝা যায় যে, আমগুলিকে ফরমালিন দিয়ে জোর করে পাকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। এগুলি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারের বদলে ক্ষতি বয়ে আনবে বলে সচেতন নাগরিকরা মনে করলেও অধিকাংশ মানুষই না বুঝে এগুলি কিনে নিয়ে খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এক ধরণের পঁচনরোধক ফরমালিন আমের গায়ে লাগিয়ে তারা বাজারে বিক্রি করছেন।

এ তেজস্ক্রিয় ফরমালিন ফলের গায়ে লাগানোর পর ঐ আম দীর্ঘদিন তাজা থাকে। এতে বিক্রেতাদের পঁচনজনিক লোকসান কমে গেলেও এসব আম পেটে যাবার পর ফরমালিনের বিষক্রিয়া শুরু হলে তা অতি ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রবেশ করে কোষগুলিকে নিস্ক্রিয় করে দেয়। প্রথম ধাপে মানুষের মধ্যে ক্ষুধা মন্দা রোগ দেখা দেয়। পরে নিন্দ্রাহীনতা, লিভারে সমস্যা, ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু এ বিষয়ে সচেতন না হওয়ায় বেশিরভাগ ক্রেতাই ফরমালিন মিশ্রিত আম খেয়ে স্বাস্থ্যহানির মুখে পড়ছেন। অতি শীঘ্রই ভোলা জেলা শহরসহবিভিন্ন উপজেলার প্রতিটি হাট বাজারে ফরমালিন বিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অসাধু ব্যাবসায়ীদের জরিমানা প্রদানের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান ভোলার সচেতনমহল।