মেইন ম্যেনু

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জমে উঠতে শুরু করেছে পশুর হাটগুলো

শেষ সময়ে এসে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গায় পবিত্র ঈদুল আযহার কোরবানীকে সামনে রেখে গরু ব্যবসায়ী ও খামারীরা গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পদভারে গরু বেচাকেনার পশুর হাট গুলো জমে উঠেছে। ভাল লাভের আশায় খামারিরা রাতদিন গরুর পরিচর্যা করছেন।

চলতি বছর কোরবানির জন্য বেশিরভাগ খামারিরা খড়, ভুষি, কলাই, ঘাস, খৈল প্রভৃতি প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করছেন। কোরবানির হাটে বিক্রি করে খামারিরা ভাল লাভের আশা করছেন।

তবে নিষিদ্ধ ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে মোটাতাজা গরু ভারত থেকে আমদানি করার ফলে স্বাস্থ্য ঝুকি ও দেশীয় খামারীরা লোকসানের আশংকা করছেন। পশুর হাটগুলোতে দেশীয় গরুর পাশাপশি ভারতের গরুও আমদানী হয়েছে ব্যাপকভাবে।

উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম মালিগ্রাম কোরবানির পশুরহাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর দেশি ও বিদেশি গরু বিক্রয়ের জন্য আমদানী করা হয়েছে।

গরু ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে ক্রেতার সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। ভাল বিক্রি ও দাম বেশি পাওয়ায় তারা খুশি। অন্যদিকে ক্রেতারা দাম বেশি হওয়ার অভিযোগ করলেও দাম মোটামুটি হাতের নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে তারা জানান। তবে ভারত থেকে আমদানী করা গরু বেশীর ভাগই নিষিদ্ধ ঔষধ প্রয়োগ করে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে।

ভারতের গরু আমদানী হওয়ায় দেশীয় খামারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপশি ঔষুধ প্রয়োগ করার ফলে রোগাক্রান্ত গরু কোরবানী দেওয়ার ফলে এর মাংস খেলে মারাত্মক সব রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান। গরু বিক্রয় করতে আসা ভাঙ্গা উপজেলার সাউতিকান্দা গ্রামের জনৈক ইউনুছ আলী ব্যাপারী জানান, তিনি হাটে ২০টি গরু বিক্রয় করতে নিয়ে এসেছেন। প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে মোটা তাজাকরা গরু ভারতের গরু আমদানীর ফলে দাম কিছুটা কম হয়েছে। ক্রেতার সংখ্যা বেশী হলেও বিক্রি ততটা সন্তোষজনক না। সামনের দিনগুলোতে কোরবানীর সময় ঘনিয়ে আসা তিনি ভাল লাভের আশা করছেন।

ভাঙ্গার আবদুল্লাবাদ গ্রামের জনৈক খামারী আ. রহমান ৫টি গরু বিক্রয় করতে নিয়ে এসেছেন। এর একটি দাম উঠেছে ২লক্ষ টাকা। আরো বেশী দাম পেলে তিনি বিক্রয় করবেন বলে জানান। জনৈক ক্রেতা দীঘলকান্দা গ্রামের মো. মজিবুর রহমান খালাসী জানান, তিনি ১লক্ষ ১২ হাজার দিয়ে একটি গরু কিনেছেন। তিনি আরও জানান দাম কিছুটা বেশী।

অন্যদিকে কোরবানীকে সামনে রেখে অনেকেই পছন্দের ছাগল বিক্রি করতে হাটে এনেছেন। ছাগল বিক্রেতা আনোয়ার জানান, তিনি একটি ছাগল এনেছেন ৫০ হাজর টাকা দাম উঠেছে। তিনিও আরও বেশী দাম পেলে বিক্রি করবেন বলে জানান।

ফরিদপুর জেলার অন্যতম মালীগ্রাম পশু হাটের ইজারাদার তাজ্জুক চোকদার ও আ: মান্নান মাতুব্বর বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে হাটে প্রচুর দেশী ও বিদেশী গরু আমদানি হয়েছে। তবে এ বছর হাটে গরু আমদানী খুবই কম। আমরা সরকারী বিধি মোতাবেক হাসিলের টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং গরু বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যাবতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাটে নিরাপত্তার দায়িত্বপালনরত ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) হারুনর রশিদ জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে পুলিশ র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তা টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সড়কের নিরাপত্তা, দুর্বৃত্তদের রুখতে এবং যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মনমথ সাহা (এমকে সাহা) জানান, কোরবানীকে সামনে রেখে আমাদের কর্মচারী কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে কয়েকটি মনিটরিং টিম নিষিদ্ধ ঔষুধ প্রয়োগ নিরুৎসাহিত করতে এবং অসুস্থ্য পশুর চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রতিটি হাটে কাজ করছে।

এছাড়া বেশ কিছুদিন আগে থেকেই আমাদের টিমগুলো প্রতিটি ঔষধের দোকান, খামারী ও জনসমাগম স্থানে লিপলেট বিতরণসহ সংশ্লিষ্টদের নিষিদ্ধ ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে ঔষধ মোটাতাজা করণের কুফল সম্পর্কে সচেতনামূলক উদ্বদ্ধকরণ কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে।