মেইন ম্যেনু

ফরিদপুরে পাট কাঠি দিয়ে কৃষকের লোকশান পূরনের চেষ্টা

ফরিদপুরের সদর, সালথা, সদরপুর, ভাঙ্গা ও নগরকান্দা উপজেলায় পাটের চেয়ে পাট কাঠির কদর বেড়েছে বেশি। জেলা জুরে প্রচুর পাট কাঠি উৎপাদন হলেও আকাশ ছোঁয়া মুল্যে হয়েছে এবার। আগের তুলনায় এবছরে জেলায় পাটকাঠি বেশি উৎপাদন হচ্ছে। তারপরেও পাট চাষীরা বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন পাটকাঠি। টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া পাটের দামও তুলনা মূলক কম। তাই পাট কাঠিগুলোর কঠিন যত্ম নিচ্ছেন চাষিরা। পাটের লোকসান পাট কাঠি বিক্রি করে পূরণ করতে চান তারা।

যে কারনে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ কাচা রাস্তাগুলো দখল করে পাট কাঠি শুকানো হচ্ছে। এতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ ঘটলেও কেউ কোনো বাধা সৃষ্টি করছেন না। কারণ, জেলার বিভিন্ন গ্রামঞ্চলে প্রায় সব পরিবারেরই ফসলি জমি রয়েছে। তারা সবাই পাট আবাদ করেছেন কমবেশী। তাই পাট কাঠির যত্ম নিতে রাস্তা দখল সবারই প্রয়োজন।

সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের কৃষক কাজল ঘোষ জানান, আমাদের পাটের চাষাবাদে যে পরিমান টাকা খরচ হয়েছে তা পাট বিক্রি করে লোকশান পূরন হচ্ছে না যে কারনে পাট কাঠিই শেষ ভরসা। যদি তাতে কিছুটা লোকশান পূরন করা যায়।

সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়ার গ্রামের পাট চাষি নাঈম ফকির ও গট্টি ইউনিয়নের জয়জাপ গ্রামের নুরুদ্দীন মোল্যা বলেন, এবার পাটের যে দাম আমরা পাচ্ছি তাতে পাট আবাদ করে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। যে কারনে পাটের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিতে বেশি বেশি করে পাট কাঠির যতœ নিচ্ছি। তারা আরো বলেন, এক মণ পাট বিক্রি করছি মাত্র ১৫ থেকে ১৬শ’ টাকা। আর এক’শ মোটা পাট কাঠি শুকাইয়া বিক্রি করছি ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। প্রতিমন পাটের পিছনে সার, সেচ, নিরানি, কাটা ও আশ ছাড়ানো বাবদ খরচ হয়েছে ১৯শ’ থেকে ২ হাজার টাকার মতো। পাট চাষের খরচ উঠানোর জন্য বেশি দামে পাটকাঠি বিক্রি করতে হচ্ছে।

সদরপুর উপজেলার কৃষক বাশার জানান, পাট বিক্রি করে লোকশান থেকেই যাচ্ছে যে কারনে পাটকাটিই আমাদের শেষ ভরসা।

ফরিদপুর কৃষি সম্পসারন দপ্তরের সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হারুন-অর-রশিদ জানান, পাটের দাম একটু কম থাকাতে কৃষকদের লোকশান গুনতে হচ্ছে। তবে তাদের জন্য পাট কাটিটা বিক্রি করে লোকশান পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। এখন ফরিদপুর থেকে বিভিন্ন জায়গায় পাটকাটি যাচ্ছে যেমন বরিশাল, দাইদকান্দি, ভোলাসহ বিভিন্ন পারটেক্স বোর্ড তৈরির কারখানায়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন পানের বরজে এটা খুবই দরকারি। কৃষক দামটাও ভালো পাচ্ছেন।

সালথা উপজেলা কৃষি অফিসার মোহম্মাদ বিন ইয়ামিন বলেন, পাঠ কাঠির ভাল যত্ম নিলে এগুলো বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। এতে পাট থেকে চাষিদের আয় বাড়বে।

উল্লেখ্য ফরিদপুরে পাটের লোকসান পূরণ করতে অধিক মূল্যে পাট কাঠি বিক্রি করছেন কৃষকরা। এতে কিছুটা হলেও ক্ষতি পূরন করছেন খেটে খাওয়া এইসব কৃষকরা। কৃষকদের দাবি পাটের সঠিকভাবে মূল্য নির্ধারন করে কৃষকদের পাশে এসে দাড়ানোর জন্য সরকারকে।