মেইন ম্যেনু

ফাঁকা নগরীতে তীব্র যান সংকট

ঈদ আনন্দ উৎসবে প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত হতে আজও পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন অনেকেই। আর ঈদে ঘরমুখো মানুষকে বাড়ি পৌছে দিতে দূরপাল্লার পরিবহনের পাশাপাশি যোগ হয়েছে নগরীর লোকাল পরিবহনগুলোও। এতে রাজধানীতে দেখা দিয়েছে মারাত্মক গণপরিবহন সংকট। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

গত চারদিন থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছ রাজধানীর মানুষজন। আর এই কদিন ধরেই বাস, লঞ্চ, ট্রেন সব পরিবহনই যাত্রীতে ঠাসা থাকায় অনেকেই আজকের (শুক্রবার) দিনটিকে বেঁছে নিয়েছিলেন। এখন লোকাল পরিবহন সংকটে একদিকে যেমন পদে পদে ভোগান্তিতে পড়ছেন ঘরমুখো মানুষ, অন্যদিকে নগরীতে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ঢাকাবাসী। এর সঙ্গে দিনভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতো আছেই। যেন মরার উপর খড়ার ঘা!

সানারপাড় এলাকার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি যাচ্ছি। সকাল সাড়ে ৯টায় বাস স্ট্যান্ডে এসেছি। দুপুর সোয়া ১২টা বাজে, অথচ এখনও লোকাল বাসেই উঠতে পারিনি। কখন বাসে উঠবো, আর কখন গাবতলী পৌঁছাবো জানিনা। সেখান থেকে দূর পাল্লার গাড়িতে করে আমাকে যশোর যেতে হবে। এই ক’দিন ভিড় বেশি থাকায় আজ রওনা দিলাম অথচ এখনও গাড়িতেই উঠতে পারলাম না বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

মিরপুর এলকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, ঈদ উপলক্ষে পরিজনদের নতুন পোশাক কেনার জন্য বের হয়েছি। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাচ্ছি না। একদিকে যেমন গাড়ি কম, অন্যদিকে যাত্রী বেশি। দুই একটি গাড়ি এলেই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। যারা ধাক্কাধাক্কি করে গায়ের শক্তির জোরে উঠতে পারছেন তারা যাচ্ছেন। আর যারা একটু বয়স্ক বা যাদের সঙ্গে মহিলা ও শিশু রয়েছে তারা ঠাঁয় দাড়িয়ে আছেন। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না।

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকার কর্মব্যস্ত মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে যাওয়ায় ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। দুপুর থেকে বিকেল নাগাদ রাজধানীর চিরাচরিত রূপে যেন ভাটা পড়েছে। নেই চিরচেনা সেই দুর্বিসহ যানযট। নেই কোলাহল। কর্মব্যস্ত শহর ঢাকা এখন একেবারেই ফাঁকা। নগরীর সড়কগুলোতে বাস-মিনিবাস সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি ও ট্যাক্সি ক্যাবের স্বল্পতা। এতে যে কয়েকটি রিকশা ও অটোরিকশা পাওয়া যাচ্ছে তাও আবার সাধারণ দিনের চেয়েও প্রায় তিন-চার গুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তাই বিকল্প হিসেবে হেঁটে যাওয়া ছাড়া যেন অন্য কোন পথ নেই কারো সামনে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনির আখড়া, মতিঝিল, রামপুড়া, বাড্ডা, মিরপুর, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলাবাগান, শাহবাগ, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, মালিবাগসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের তীব্র সংকট চলছে। চিরচেনা যানজটের এই রাজধানীর প্রতিটি রুটেই রয়েছে যানবাহন সংকট।

জানা গেছে, রাজধানীর ভেতর চলাচলকারী ভাঙাচোরা বাসগুলোও দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনের জন্য নামানো হয়েছে। বেশি আয়ের আশায় প্রতি বছর ঈদের ২-৩দিন আগে থেকে সিটি সার্ভিসগুলো এ কাজ করে থাকে।

তারাব পরিবহনের চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, দূরপাল্লার গাড়ি চাহিদার তুলনায় কম থাকায় আমাদের অনেক গাড়িই এখন ঢাকা কুমিল্লা রুটে চলছে। প্রতিবছরই ঈদের আগের দু-তিন দিন এবং ঈদের দিন এসব বাস দূরপাল্লার রুটে নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে আয় রোজগার ভালোই হয়।

এ প্রসেঙ্গ পুরনো বাসের একজন মালিক জানান, রাজধানীতে প্রায় ৫ হাজার সিটি সার্ভিসের বাস রয়েছে। ঈদ আসলে এর মধ্যে কিছু বাস ঢাকার বাহিরের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। এ ছাড়া ঈদের আগের দিন আমাদের অনেক বাসই রিজার্ভ বাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ঈদ আনন্দে আপনজনের সঙ্গে যোগ দিতে অনেকেই বাস রিজার্ভ করে নিয়ে যান। একারণে রাজধানীতের যানবাহনের সংকট দেখা দেয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ঈদ উপলক্ষে সিটি সার্ভিসের কোনো বাস টার্মিনাল থেকে দুরপাল্লায় ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেননা এ ব্যাপারে আমরা নানান পদক্ষেপ নিয়েছি। কোন অবস্থাতেই সিটি সার্ভিস টার্মিনালে ঢুকতে পারেনা। তবে টার্মিনালের বাইরে থেকে সিটি সার্ভিসগুলো যদি বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন করে তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই।

সিটি সার্ভিসগুলো মহাসড়কে চলাচল করলে যানজট বাড়ে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাড়তি আয়ের জন্য প্রতি বছর ঈদে অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, ফিটনেসবিহীন ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অসংখ্য গাড়ি দূরপাল্লার রাস্তায় নামানো হয়। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনা বাড়ে, অন্যদিক সৃষ্টি হয় যানজটের।