মেইন ম্যেনু

ফাঁস হলো আরেক গরম খবর, খালেদা কে বাড়ি ছাড়তে বলেন তারেক, কিন্তু কেন?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিডিআর বিদ্রোহের দিন লন্ডন থেকে তারেক রহমান ফোন করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছাড়তে বলেছিলেন। বিদ্রোহ শুরুর আগেই খালেদা জিয়া সকালে বাড়ি ছাড়েন। আর তারেক রহমান লন্ডন সময় রাত একটায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭ সাতটা) ৪৫ বার ফোন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ওই দিনের ঘটনা দেখে প্রতীয়মান হয়, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে খালেদা জিয়ার যোগসূত্র ছিল।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে পা রাখেন। দিনটি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া তাঁর ভাষণে দোষারোপ করেন বিডিআর বিদ্রোহ নাকি আওয়ামী লীগই করেছে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছি। সেই সরকার আমরা কেন একটি বাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটাবে? এটা কোনো দিন কোনো সরকার করতে পারেন না। খালেদা জিয়ার কাছে আমার প্রশ্ন, বিডিআর বিদ্রোহ শুরু হলো সকাল নয়টার দিকে। খালেদা জিয়া তখন ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে থাকতেন। তিনি কেন ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে সকাল সাড়ে সাতটা-আটটার সময় আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলেন। তিনি কেন আন্ডারগ্রাউন্ডে গেলেন এই জবাব তাঁকে জনগণের কাছে দিতে হবে। তাঁর এই বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয়-ওই ঘটনায় তাঁর যোগসূত্র ছিল। তাঁর ছেলে (তারেক রহমান) লন্ডন সময় রাত একটার সময় লন্ডন থেকে ৪৫ বার ফোন করেছে তাঁর মাকে। কেন তাঁর ছেলে (তারেক রহমান) তাঁকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছেন। কারণ এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা কার থাকতে পারে? তাঁর নিজেরই থাকতে পারে।’ এই ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন একদিন হবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

জিয়াউর রহমানের ক্ষমতাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়ার ক্ষমতা সম্পূর্ণ অবৈধ-অসাংবিধানিক। হাইকোর্ট সেই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। সেই রায়ের মধ্য জিয়ার ক্ষমতা দখল অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। কাজে তিনি যা যা করে গেছেন তা সব অবৈধ। ক্ষমতায় গিয়ে জিয়াউর রহমান যে দল গঠন করেছে, সেটাও প্রকৃতপক্ষে অবৈধ বলে গণ্য করা দরকার। জিয়াকে আর রাষ্ট্রপতি বলা যাবে না। কারণ হাইকোর্টের রায় তাহলে মানা হবে না।’

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার কটাক্ষের জন্য তাঁর সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পাকিস্তানি হানাদারদের পরাজয় মনে হয় খালেদা জিয়া ভুলতে পারেন না। কারণ তাঁর পেয়ারে পাকিস্তান দিলমে হ্যায় পেয়ারে পাকিস্তান। সেই দিলমে পেয়ারে পাকিস্তানকে উনি ভোলেন নাই। যারা পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী যেই সুরে কথা বলেন। উনি সেই সুরে কথা বলেন। ওনারা কত বড় দুঃসাহস। যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। সেই ৩০ লাখ শহীদ নিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, এত মানুষ নাকি মারা যায় নাই। অর্থাৎ ওনার পেয়ারে পাকিস্তান যেটা বলবেন উনি সেটাই গ্রহণ করবেন। মানুষ যেটা জেনেছে সেটা ওনার কাছে সত্য না।’

যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর
যানজট নিরসনে উড়াল সড়কসহ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যানজট নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে মেট্রোরেল নির্মাণের পদক্ষেপ নিয়েছি। উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেল দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। ১৬টি স্টেশন করা হয়েছে। আমরাই ইচ্ছে করেই একটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেখেছি। যাতে উত্তরা, মিরপুরে থাকা বিভিন্ন শিক্ষক শিক্ষার্থী ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারে। এ মেট্রোরেলের মাধ্যমে বারডেম, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাতে অল্প সময়ে কর্মস্থলে আসতে পারবে। এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে মেট্রোরেল করা হয়। আকাশ দিয়ে যাবে, নিচ দিয়ে যাবে না। যেখানে যেখানে সাউন্ড প্রুফ করা দরকার সেখানে সাউন্ড প্রুফ করে দেওয়া হবে। সেইভাবে এটা করা হবে।’

মেট্রোরেলের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে দেখলাম কিছু শিক্ষক-ছাত্ররা আন্দোলনে নেমে গেল; এখান দিয়ে মেট্রোরেল যাবে কেন? গ্রাম-গঞ্জে একটা কথা আছে না, ‘‘যার জন্য করি চুরি সেই বলে চোর’’।’

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎ; সেখানে সুন্দরবন সুন্দরবন গেল বলে চিৎকার। সেখানে যাওয়া নাই। এখানে বসে আন্দোলন। আমাদের বিদ্যুতের প্রয়োজন। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা আখেরি মোনাজাতে তাঁর দোয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি—মোনাজাত ধরেছি। মোনাজাতে একটা জিনিস চেয়েছি—আল্লাহ যেন দেশের মানুষকে হেফাজত করেন। জঙ্গি-সন্ত্রাসের হাত থেকে বাংলাদেশকে যেন মুক্ত রাখেন। যারা ইজতেমায় এসেছেন, তাঁরা সহি-সালামতে ফিরে যেতে পারেন আপন ঘরে।’ ইজতেমায় শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে সহযোগিতার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করবেন না

বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘১২৩ ভাগ বেতন বাড়িয়ে দিয়েছি। যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে সেটা তো আমরা দেখব, সেটা আমরা দেখছি। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা নষ্ট করলে ছাত্র-ছাত্রীরা তা মেনে নেবে না। আমাদের কাছেও সেটা গ্রহণযোগ্য না। যানজটমুক্ত যেমন রাস্তাঘাট, তেমনি সেশনজট মুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। আমরা সেটাই চাই। সেভাবেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি বলেন, শিক্ষকদের সম্মান অনেক ওপরে। এখন একজন শিক্ষক যদি সচিবের মর্যাদায় চায়, তাহলে সেখানে আমার বলার নাই। কারণ আমরা শিক্ষক ড. আনিসুজ্জামান সাহেব, আমার শিক্ষক রফিক স্যার। তারা আমার শিক্ষক। আমি প্রধানমন্ত্রী হলেও আমার শিক্ষক হিসেবে তাদের সম্মান করি। সেই সম্মান তাঁরা পাক। প্রফেসর হিসেবেই তারা সম্মান পাক।

সেই সম্মানবোধটা কিছুটা নিজেদের ওপর নির্ভর করে। ওই ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে, সম্মান আদায় করার কথা বলা, শিক্ষকদের বেলায় মানায় না। এটা শিক্ষকদের জন্য মোটেই সম্মানজনক না। কাজে সমস্যাটা কী সেটা তো আলোচনা করছি, দেখছি। যার যার কর্মক্ষেত্র তাঁর তাঁর এখানে। যদি সচিবদের মর্যাদা লাগে তাহলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে সচিব হয়ে যান, বা পিএসসিতে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি নেন। তাহলে তো সমস্যা থাকে না।’ সরকারি চাকরিজীবীদের তুলনায় শিক্ষকদের চাকরির বয়সসীমা বেশি সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ না বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সচল রাখার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকলের ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করেছি। বাড়ানোর পর অনেকের মধ্যে অসন্তোষ। এত বেতন বাড়ানোর পর কেন এত অসন্তোষ তা আমার বোধগম্য নয়।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু সমাবেশে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে যাবে যদি অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে না পারি। তাই এই দিন তিনি তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন।’

খালেদা জিয়াকে সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ‘পাকসখি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একজন পাকসখি আছেন। ওনার উন্নয়ন ভালো লাগে না। উনি মানুষ পোড়ান। মানুষ পোড়ানোর গন্ধ ওনার কাছে আতরের গন্ধ মনে হয়। আর একই সঙ্গে পাকিস্তানের জানজুয়ার মারা গেলে উনি শোক প্রকাশ করেন। তাঁর মনে পড়ে ‘‘হারাল কোথায় সেই দিনগুলি, স্মৃতির বেদনা কেমনে ভুলি’’। স্মৃতির বেদনায় উনি ছটফট করেন। বাংলার মানুষদের হত্যা করে তিনি প্রতিশোধ নিতে চান।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৯ সালে আবার নির্বাচন হবে। ২০১৯ সালে তাঁকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা হবে। ২০১৯ আপনার জন্য হবে আখেরি মোনাজাত।’ শেখ ফজলুল করিম সেলিম তাঁর বক্তৃতায় পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার আহ্বান জানান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কেউ দমাতে পারে নাই। শেখ হাসিনাকেই দমাতে পারে নাই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে বিশ্বের অগ্রগামী দেশের সর্বোচ্চ কাতারে বাংলাদেশ। বিদেশি পত্র-পত্রিকা দেখেন, টেলিভিশন দেখেন, ইন্টারনেটে দেখেন। সারা বিশ্ব বলছে—শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও কূটনীতিতে। এমন কোনো সেক্টর নেই যে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে না।’

সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘এখনো সময় হয় নাই। শেখ হাসিনাকে আরও সময় দিতে হবে। আরও কয়েকটা টার্ম তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রয়োজন আছে। শেখ হাসিনার জন্য নয়, এ দেশের মানুষের জন্য। আসুন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।