মেইন ম্যেনু

ফারাক্কা বাঁধ যত নষ্টের গোড়া : বিহারের মুখ্যমন্ত্রী

বিতর্কিত ফারাক্কা বাঁধকে ‘যত নষ্টের গোড়া’ আখ্যা দিয়ে বাঁধটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার যে দাবি তুলেছেন সেই দাবি আরো জোরালো হচ্ছে প্রতিবেশি দেশটিতে।

ফারাক্কার বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য নীতীশের দাবির পক্ষে ভারতের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন আন্দোলনে নামছে বলে দেশটির বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দ্রুত ফারাক্কার বাঁধ ভেঙ্গে ফেলার পদক্ষেপ নিতে মোদি সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে। অন্যথায় তারা আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

বিহারের একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিহারের দৈনিক পত্রিকা হিন্দি সমাচারপত্র। দৈনিক জাগরণের বিহার সংস্করণের এক খবরে বলা হয়েছে, ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার দাবিতে বিহারের সবশ্রেণী পেশার মানুষ আন্দোলনে নামার সিধান্ত নিয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের গঙ্গা অববাহিকতায় বিহার রাজ্যে বন্যার জন্য ফারাক্কা বাঁধকে দায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবছরই এ কারণে বন্যায় বিহারের বিস্তৃর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এদিকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ফারাক্কা বাঁধ ভাঙ্গার দাবিকে অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বলে মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ফারাক্কা বাঁধ ভাঙ্গার দাবির বিরোধীতা করবে। খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নীতীশের প্রস্তাবের প্রতিবাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধ ভাঙলে তার প্রভাব বা ফল ভাল হবে না। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের মালিক তো কেন্দ্রীয় সরকার। তারাই সিধান্ত নেবেন- বাঁধ ভাঙ্গা যাবে কিনা।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যসচিব অশোক মোহন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে তো সমস্যার সমাধান হবে না। কত টাকা খরচ করে বাঁধ তৈরি হয়েছে। টাকাটা তো জলে যাবে। এ ছাড়াও নতুন করে জলমগ্ন হবে বিশাল এলাকা।

তিনি বলেন, নানাভাবে ফারাক্কা বাঁধের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। এই বাঁধ ভেঙ্গে ফেলা হলে প্রতি বর্ষায় ভাসবে রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গ।

পশ্চিমবঙ্গে নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র বলেছেন, আমি এক সময় ফারাক্কা বাঁধের সমালোচনা করেছি। কিন্তু ১৯৭৫ সাল থেকে বাঁধটি রয়েছে। এর ফলে ফারাক্কা থেকে মোহনা পর্যন্ত পরিবেশ বদলে গিয়েছে। তৈরি হয়েছে এক ধরণের ইকোলজি। কোনওবাবেই বাঁধ ভেঙ্গে দেওয়া হলে তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে পরিবেশের ওপর। বিপন্ন হবে ইলিশ, গাঙ্গেয় ডলফিন। গঙ্গা তীরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের ৪৪টি পৌরসভা ও তিনটি পৌরনিগত ভুগবে বিপুল পানি সংকটে।

পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশবাদী আইনজীবী সুভাষ দত্ত বলেন, রাজনীতিকদের তো মুখে কোনও কথা আটকায় না। মিথ্যাচারই ওদের অধিকাংমের মূল মন্ত্র। ফারাক্কা বাঁধ ভাঙ্গার কতা প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

গত মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারা ফারাক্কা বাঁধ ভেঙ্গে ফেলার দাবি জানান। নীতিশের অভিযোগ, বক্সার থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত গঙ্গার নাব্যতা অনেক কমে গেছে। ফলে পানি জমে দু’ পাড় ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধ থাকলে এই সংকট চলবে। তাই এই বাঁধ ভেঙ্গে ফেলা হউক।