মেইন ম্যেনু

ফার্মেসিতে পড়তে চাইলে

বিধান মুখার্জী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ঃ সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে তারুণ্যের অন্যতম পেশা ফার্মাসিস্ট।দেশের পাশাপাশি বিদেশে চাকুরীর সুযোগ আর ফার্মাসিস্টের ক্রমবর্ধমান চাহিদার জন্য ফার্মাসিস্ট পেশা মেধাবীদের পছন্দের তালিকায় থাকছে। দেশের প্রায় তিনশত ওষুধ উৎপাদন এবং বিপণনকারী ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি দেশের চাহিদার ৯৭ ভাগ পুরন করে আন্তর্জাতিক বাজারে ১০০ টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। পত্রপত্রিকার হিসাবমতে আগামী ১০ বছরে ওষুধ শিল্প বাংলাদেশে প্রথম অবস্থানে থাকবে।

আমাদের দেশে সাধারনত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরেই একজন শিক্ষার্থী তার ভবিষ্যতের লক্ষ খুজে নেন।সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদাও পাল্টে যায়।আর তাই বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের চাহিদার কথাটা একবার ভেবে নেয়াই উচিত।

সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ রোগ, শোক আর মহামারীকে জয় করার চেষ্টা করে আসছে।এরই ফলশ্রুতিতে যক্ষ্মা, বসন্ত, কলেরার মত কালান্তক ব্যাধিকে বিতাড়িত করে মানুষ আজ দীর্ঘজীবন লাভের মধ্যদিয়ে আধুনিক সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে।আর ওষুধশিল্পে অসামান্য প্রতিভার সাক্ষর রেখে যারা অবিরত এই বিকাশকে এগিয়ে নিয়েছেন তারাই ফার্মাসিস্ট।

একজন ফার্মাসিস্ট ওষুধ গবেষণা, প্রস্তুত, মান নিয়ন্ত্রন, সংরক্ষন, সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বিপণন সহ সংশ্লিষ্ট কাজ করে থাকেন। বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে ওষুধের গবেষণা এবং ওষুধের মানোন্নয়নের জন্য ফার্মাসিস্টদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিং, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, আর্মড ফোর্সেস, সরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক্যাল ম্যানেজার, ওষুধ প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক উচ্চ পদেও ফার্মাসিস্টরা চাকরি করতে পারেন।আবার যারা শিক্ষাক্ষেত্রে জড়িত থাকতে চান তারা শিক্ষকতা, গবেষণা, স্বাস্থ্যরক্ষা ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রশাসনিক দপ্তরেও কাজ করতে পারেন।

একজন ফার্মাসিস্ট হিসাবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে হলে চার বছর মেয়াদী বি ফার্ম কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।কেমিস্ট্রি এবং বায়োলজিতে ভালো দখল যাদের তারা পেশা হিসাবে ফার্মাসিস্ট পেশাকে স্বপ্ন করতে পারেন। সাধারণত মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেসরকারি ভাবে প্রায় ১৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ফার্মেসী কোর্স চালু আছে।প্রথম পছন্দ হিসাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে ইউ জি সি থেকে অনুমোদিত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার কোর্স সম্পন্ন করতে পারেন।একটু সচেতন ভাবে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়টি বেছে নিন। আপনার চেষ্টার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক সুসজ্জিত ল্যাব, বইপুস্তক সমৃদ্ধ লাইব্রেরী, ফার্মাসিউটিক্যালসে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ল্যাব করার সুবিধা আপনার স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।