মেইন ম্যেনু

ফিতরা আদায়ের উপকারিতা

সাদকাতুল ফিতর গরিবের হক। তা আদায় করা সামর্থবান মুলমানের ওপর আবশ্যক। এ সাদকাহ আদায়ে রয়েছে অনেক উপকারিতা। যা তুলে ধরা হলো-

১. সাদকাতুল ফিতর দ্বিতীয় হিজরির শা’বান মাসে বিধিবদ্ধ হয়। রোজাদারকে সকল অবাঞ্ছনীয় অসারতা ও যৌনাচার তথা ফাহেশা কাজ থেকে পবিত্র করার জন্য; যা সে রোজাকালীন অবস্থায় করে ফেলেছে। এই সাদকাহ হবে রোজাদারের রোজা পালন অবস্থায় ভুল-ত্রুটির ঘাটতির ক্ষতির পরিপূরক। কেননা সাওয়াবের কাজ-কর্ম মানুষের পাপ তথা গোনাহকে ধ্বংস করে দেয়।

২. এ সাদকাহকে সামর্থবানদের জন্য আবশ্যক করার কারণ হলো- ঈদের দিন গরিব ও মিসকিনদের আনন্দ-বিনোদন, উত্তম খাবারের সহজলভ্যতার জন্য। যাতে তারাও ধনীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। দৈনিকের আয়-রোজগারে যাদের সংসার চলে; ভিক্ষাবৃত্তি করে খাবার যোগাড় করতে হয়; খাবারের জন্য অন্য লোকের দ্বারে যেতে হয়।

তাদেরকে অন্তত ঈদের দিনটাতে যাতে লাঞ্ছিত হতে না হয় এবং নিজ ঘরে খাবার দেখে মনের ভেতর যেন খুশির ঢেউ আসে, এ জন্যই সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজবিজ্ঞানী, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ফিতরার সুব্যবস্থার প্রচলন করে গেছেন। হাদীসে এসেছে-

হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের স্বাধীন ও ক্রীতদাস, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড় সকলের জন্য এক সা’ (প্রায় আড়াই কেজি) খেজুর বা যব খাদ্য (আদায়) আবশ্যক করেছেন। (বুখারি, মুসলিম)

৩. আল্লাহ তাআলা দীর্ঘ একটি বছর আমাদেরকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখার পর পবিত্র মাস রমজানে দান করেছেন। সুস্থতার সঙ্গে রমজানের রোজা আদায় করার তাওফিক দিয়েছেন। তাই এ সুস্থ দেহের জাকাত হল ফিতরা।

৪. এই সাদকাহ আদায় করতে হয় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য। কেননা আল্লাহ তাআলা দয়া করে মুসলিম উম্মাহকে দীর্ঘ এক মাস মহামূল্যবান ফরজ ইবাদত রোজা রাখার তাওফিক দান করেছেন।

৫. সর্বোপরি এই নিয়ামতের মাস, আনুগত্যের মাসের শেষে যাতে আত্মশুদ্ধিও প্রক্রিয়া পরিপূর্ণ হয়। সকল হ্যাঁ-সূচক ও না-সূচক আনুগত্যের পর আত্মাকে বিশুদ্ধ ও পবিত্র করার লক্ষ্যে আল্লাহর পথে মাল (অর্থ) খরচের মাধ্যমে নিজেদেরকে পবিত্রতা করার জন্যই ফিতরার ব্যবস্থা করেছেন।

পরিশেষে…
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফিতরা আদায় করে পুত:পবিত্র হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ্য দেহ ও মনের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।