মেইন ম্যেনু

ফুঁপিয়ে কাঁদলো পথশিশুরা

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকার একটি বাসায় ১০ ছিন্নমূল শিশুকে উদ্ধারের মামলায় ঢাকার মহানগর দায়রা জজ চার কর্মকর্তার জামিন আবেদন নাকচ করলে আগারগাঁও থেকে আসা পথশিশুরা কান্নায় ভেঙে পড়ে।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কামরুল হোসনে মোল্লা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে ওই নাকচ আদেশ দেন।

এর আগে ঢাকার সিএমএম আদালতে নাকচ হওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আসামিপক্ষ মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই জামিন আবেদন করেন। মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

এদিন রাজধানীর আগারগাঁও থেকে অদম্য ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মজার ইস্কুলের’ শিক্ষার্থী পথশিশুরা লাল পোশাক পরে এসেছিল তাদের স্যারদেরকে (চার কর্মকর্তা) জামিন পেলে কারাফটকে স্বাগত জানানোর জন্য। শুনানি শেষে আদেশ হওয়ার আগ পর্যন্ত অপর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই পথশিশুরা বেশ আশাবাদী ছিল।

জামিন আদেশ নাকচ হওয়ার সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানটির সেক্রেটারি ও এ মামলার আসামি জাকিয়া বেগমের জন্য ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে পথশিশু শারমিন, আনিকা, স্বপ্না ও রানী। তাদের কান্না দেখে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ভিড় জমে যায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনের খোলা চত্বরে। এসময় তাদের কান্না থামাতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের ছোট বোন লাবনী তাদেরকে পরম মমতায় বুকে টেনে নেন। এসময় বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা নারীকে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে। অনেকেই প্রকাশ করেছেন হতাশা।

ওই পথশিশুদের সঙ্গে এসেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানের ছোট বোন লাবনী ও তাদের সত্তরোর্ধ নানা এবং সেক্রেটারি জাকিয়া সুলতানার মা মজিদা বেগম (৪২)। তিনি আাদালতের বাইরে বটগাছের নিচে কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বারবার তিনি আল্লাহর উদ্দেশে বলছিলেন, ‘আমার মেয়ে নির্দোষ। আল্লাহ তুমিতো জানো সে কারো ক্ষতি করে নাই। সে তো মানুষের সেবা করছে। তাকে তুমি আমার বুকে ফিরায়ে দাও।’

১৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ মামলায় জেলহাজতে আছেন প্রতিষ্ঠানটির চার কর্মকর্তা আরিফুর রহমান (২৪), হাসিবুল হাসান সবুজ (১৯), জাকিয়া সুলতানা (২২) ও ফিরোজ আলম খান শুভ (২১)। এদের মধ্যে আরিফুর রহমান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং জাকিয়া সুলতানা সাধারণ সম্পাদক।

এদিনও প্রতিষ্ঠানটির বহু স্বেচ্ছাসেবী আদালতে এসেছেন। এসেছেন ওই চার কর্মকর্তার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনরাও।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি নতুন বেসরকারি সংস্থা অদম্য ফাউন্ডেশনের শেলটারহোম থেকে ১০টি ছিন্নমূল শিশুকে উদ্ধারের ঘটনায় চার কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানার পুলিশ। এরপর তাদেরকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

উদ্ধারকৃত শিশুদের বক্তব্য এবং রিমান্ডকৃতদের আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের চোখের পানি ও আকুতি দেখে এই কথা বলা যায় যে, নিঃস্বার্থ সমাজ সেবা করতে গিয়ে ওইদিন রিমান্ডে যেতে হলো অদম্য বংলাদেশ ফাউন্ডেশনের অদম্য চার কর্মীকে। কিন্তু শক্ত তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মহামান্য আদালত তাদের সঙ্গে কেন এই আচরণ করছেন তা কারো বোধগম্য নয়।