মেইন ম্যেনু

ফুটবল পাগল জার্মানিতে ক্রিকেট জাগরণ

জার্মানির নামটি বললেই কোনো না কোনোভাবে ফুটবলের বিষয়টি চলে আসে। গেল ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে অন্তিম মুহূর্তের গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে জার্মানরা।

জার্মানি মূলত একটি ফুটবল পাগল জাতি। এবার তাদের দেশেই শুরু হয়েছে ক্রিকেট জাগরণ। আর সেটি শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে অভিবাসী হিসেবে সেখানে যাওয়া তরুণদের নিয়ে।

কেবল ২০১৫ সালেই ৪০ হাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানের মানুষ উদ্বাস্তু হিসেবে জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের আগমণে জার্মানিতে ক্রিকেট বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

২০১২ সালে জার্মানি ক্রিকেট ফেডারেশনের (ডিসিবি) প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পান ব্রায়ান মান্টলি। তখন জার্মানিতে সাকুল্যে ক্রিকেটারের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫০০ জন। ৭০টি ক্রিকেট দল তাদের নিয়ে খেলত। কিন্তু আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তরুণরা জার্মানিতে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নেওয়ার পর জার্মানিতে যেন ক্রিকেটের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। আগে যেখানে ১ হাজার ৫০০ ক্রিকেটার ছিল, এখন সেখানে ক্রিকেটারের সংখ্যা ৪ হাজার! আগে যেখানে ৭০টি ক্রিকেট দল ছিল। এখানে সেখানে দলসংখ্যা ২০৫টি!

এ বিষয়ে মান্টলি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন ক্লাবের প্রচুর আবেদন পাচ্ছি। প্রচুর তরুণ খেলার জন্য ধরনা দিচ্ছে। এমনকী সমাজকর্মীরা যারা কখনো ক্রিকেটের নামও শোনেনি, তারাও আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তরুণদের খেলতে দেখে এখন ক্রিকেটের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারাও খেলতে চাইছে। অবশ্য আফগানিস্তান ও পাকিস্তানিদের ফুটবল ও ভলিবল খেলতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ক্রিকেট খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

নতুন ক্লাবের খেলোয়াড়দের ব্যাট, বল ও জার্সি দিয়ে সহায়তা করছে জার্মানির ক্রিকেট ফেডারেশন। ইতিমধ্যে তারা ৪০০ বাক্স ক্রিকেট সরঞ্জাম নতুন ক্লাবগুলোকে সরবরাহ করেছে।

মান্টলি বলেন, ‘আসলে সবই ফুরিয়ে যাচ্ছে। আমরা ক্লাবগুলোর চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছি না। আমরা এখন পৃষ্ঠপোষক ও ফান্ড সংগ্রহের দিকে নজর দিচ্ছি।’

তবে জার্মানিতে ক্রিকেটের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পিচ। ২২ গজের একটি পিচ ভাড়া করতে গুনতে হচ্ছে ৮ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

পিচের খরচ কমাতে জার্মানির ক্রিকেট ফেডারেশন এখন নারকেলের ছোবরার তৈরি ম্যাট সরবরাহ করছে। যার প্রতিটির দাম ৫’শ পাউন্ড (৫৬ হাজার টাকা)। এই ম্যাট পিচ হিসেবে ব্যবহার করে খেলছে তারা। কাঠের বোর্ডের উপর নারিকেলের ছোবরার তৈরি ম্যাচ সাধারণ পিচের মতোই কাজ করে।

আরো একটি সমস্যা হচ্ছে উদ্বাস্তুতের ভাষাগত সমস্যা। আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তানের তরুণরা জার্মানির ভাষা বোঝে না। সে কারণে তাদের কাছ থেকে পুরোপুরি সবকিছু আদায় করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে মান্টলি বলেন, ‘ভাষাগত সমস্যা একটি বড় সমস্যা। তারা যা জানে সেটা আমরা পুরোপুরি শিখতে পারছি না ভাষাগত সমস্যার কারণে। বর্তমানে আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড় আফগানিস্তানের। তারা ইতিমধ্যে জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছ। তাদের সংখ্যা রাতারাতি আরো বাড়বে। আমরা মানসম্পন্ন ক্রিকেট খেলতে চাই। ভালো মানের ক্রিকেটার বানাতে চাই। আমরা আসলে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের দেখানো পথ ধরে আগাতে চাই। যারা টেস্ট খেলার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ভবিষ্যত নিয়ে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। অবশ্য আমাদের ক্রিকেট সরঞ্জাম ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক সুবিধাদির ঘাটতি রয়েছে। তারপরও জার্মানিতে যেভাবে ক্রিকেট জোয়ার বইতে শুরু করেছে তাতে আমি বিস্মিত!’