মেইন ম্যেনু

ফুলবাড়ীতে শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে ঈদ মার্কেট

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছেদিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঈদ মার্কেট ততই জমে উঠছে৷ অন্যান্য বছর যেমন রজমানের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বাজারে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়, এবার তার ব্যাতিক্রম ঘটেছে৷ ১৫/১৬ রমজানেও ফুলবাড়ীতে ঈদ মার্কেটে ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি৷ তবে ২০/২২ রমজান থেকে মার্কেটগুলোতে প্রচন্ড ভিড় লেগে গেছে৷ তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়াতে কিছুটা বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে৷ কাটা কাপড়ের দোকানগুলোতে রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই কেনাকাটা শুরু হয়েছে৷ বর্তমানে পৌর বাজারের সব ধরণের দোকানে বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে অবস্থা খুব ভালোর দিকে এগুচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন৷

গত বছরের তুলনায় এবার কাপড় জুতাসহ সব রকমের আইটেমের দাম বেশি বলে ভুক্তভোগী ক্রেতা সাধারণ অভিমত প্রকাশ করেছেন৷ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের ক্রেতাদের ভিড় বেশী লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ আর শহরের ক্রেতা সাধারণ ইফতারীর পর থেকে মধ্যরাত এবং কোন কোন দোকানে সারারাত কেনাকাটা করছেন৷ ফুলবাড়ী ও আশেপাশের এলাকায় পুরোদমে রোপা আমন চাষ শুরু না হওয়ার ফলে দিনমজুরদের হাতে এবার টাকা-পয়সা নেই বলে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে৷ তাই শ্রমিক শ্রেণীর মানুষজন এখনও ঈদের কেনাকাটায় মনোজোগ দিতে পারেননি৷ তবে ফুটপথ তথা ভ্রাম্যমান দোকানগুলোত এসব ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷

এবার ফুলবাড়ী বাজারে শাড়ী, থ্রি-পিস, সালোয়ার, কামিজ, জিন্‌স প্যান্ট, টি-শার্ট প্রভৃতি কাপড়ের আইটেমসহ রকমারী জুতা স্যান্ডেলের সমাহার হয়েছে৷ বাচ্চাদের কাপড়ের মধ্যে গতবছরের আকর্ষণীয় ডিজাইন ও বাহারী কাপড়ের সমাহার যেমন রয়েছে তেমনি নিত্য নতুন নামেও এবার রয়েছে বাচ্ছাদের অনেক আইটেমের কাপড়৷ তবে সব কিছুকে ছাড়িয়ে এবার কিরণ মালার জয়জয়কার সব বয়সের বাচ্ছাদের কাছে৷ পুরো মার্কেট যেন কিরণ মালা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পরেছে৷ তবে দাম বেশি হওয়ায় এই সব পোশাক সব ধরণের ক্রেতা কিনতে পারছেন না বলে আফসোস করে ফিরে যাচ্ছেন ৷

১ বছরের শিশু থেকে ১২/১৪ বছরের বাচ্চাদের ১ সেট পোষাক বিক্রি হচ্ছে ৬’শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানদার জানান শুধু কিরণ মালার বিক্রি বেশি বিধায় সব ধরণের পোষাকে কিরণ মালার স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে৷ পাঞ্জাবীর দোকানগুলোতে পাঞ্জাবীর পাশাপাশি ট্রাউজার ও জুড়িদার পায়জামা বিক্রি হচ্ছে বেশি৷ এবার পাঞ্জাবীর বাজারে সুতি পাঞ্জাবীর চাহিদাই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ পাঞ্জাবীর মধ্যেমোদি, পুষ্পকলি, জিপসী, অক্টপাস, মাসাককালী প্রভৃতির চাহিদা রয়েছে৷

তবে দাম বেশি হওয়ায় ফ্যাসন পাঞ্জাবী ও রেডিমেট ফ্যাসন পোষাকের বিক্রি কম হচ্ছে৷ শুধু কিরণ মালা আইটেমের পোষাক দিতেই দোকানদাররা হিমসিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে৷ এবার পাঞ্জাবী নিম্নে ৭’শ থেকে উপরে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে৷ পৌর বাজারে অভিজাত জুতার দোকান সৌখিন সু-হাউজের মালিক ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়রমুরতুজা সরকার মানিক বলেন, দেরিতে হলেও ফুলবাড়ীতে ঈদের বাজার ক্রমেই জমে উঠেছে৷ ক্রেতারা নেড়ে চেড়ে দেখছেন এবং তুলনা মূলক কম দামের স্যান্ডেল জুতা বেশী কিনছেন৷

তবে ক্রেতাদের মধ্যে জাকির হোসেন জানান দাম বেশি হওয়ার জন্য পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও মনের মত স্যান্ডেল কেনা যাচ্ছে না৷ সাধ্যের মধ্যে একটু কম দামে স্যান্ডেল কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে৷ ফুলবাড়ীর ২টি অভিজাত টেইলার্স ভিআইপি ও বেনিসন তাদের অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন৷ শাড়ী কাপড়ের দোকানের মধ্যে রমনী শাড়ী ঘর, মনেরেখ শাড়ী ঘর, বধু সাজ এই তিনটি দোকানে বেশি ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ তবে এখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে৷

কারণ ক্রেতাদেরকে এই সব দোকানেও আক্ষেপ করে বলতে শোনা গেছে সব কাপড়ের দাম বেশি, কেনার সাধ্য নেই৷ বিক্রেতারা বলছেন পাইকারীর মোকামেই বেশি দামে এবার ঈদ মার্কেটের কেনাকাটা করতে হয়েছে৷ তাই আমাদের কিছু করার নেই৷ নূন্যতম লাভেই আমরা বেচা-বিক্রি করার চেষ্টা করছি৷ এবার ফুলবাড়ী বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে তরুণ-তরুণীদের ভিড়ই বেশি লক্ষ্য করার যাচ্ছে ৷ বিশেষ করে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় তরুনীরা দল বেধে দোকানগুলোতে কেনাকাটা করছে ৷