মেইন ম্যেনু

ফুলে যাওয়া বর্ধিত শিরার আছে সমাধান!

শীতে স্থায়ীভাবে স্ফীত বা ফুলে যাওয়া বর্ধিত শিরার ব্যথা বাড়ে। বর্ধিত শিরা বলতে বৃদ্ধ শিরাকে বোঝায়।

বর্ধিত শিরাগুলি খুবই অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা শিরা যা চামড়ার ওপরের দিকেই দেখা যায়। বেশির ভাগ লোকের এই শিরাগুলো দেখা যায় পায়ে বা থাইয়ের অংশে। পুরুষের তুলনায় সাধারণত নারীরাই এ রোগে বেশি ভুগে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্রী শিরাগুলো খুবই সাধারণ এবং হামেশাই দেখার যায়। বর্ধিত শিরার কিছু লক্ষণ আছে যেমন : পা ফুলে ওঠা, অস্থিরতা,পায়ে ফোসকা, চুলকানি,পায়ে শিরটান,পা ভারী লাগা ও ক্লান্তিভাব। অনেকের আবার দু’পা একে অপরের ওপর রাখলে শিরা ফুলে ওঠে । তবে এ রোগটি অনেক সময় বংশানুক্রমেও হয়ে থাকে।

দুঃসহ ব্যথার রোগ বর্ধিত শিরা, তাই এর চিকিৎসা বা ব্যথার উপষম এখুনি করা উচিত। তাছাড়া অকারণে আর যণ্ত্রণা সহ্য করবেন কেন? যদি ঘরেই এর সমাধান থাকে!

নিম্নে এর ঘরোয়া কিছু সমাধান দেয়া হল:

* ক্যাস্টর ওয়েল বর্ধিত শিরার সমস্যার এক অন্যতম সেরা নিরাময়। স্নানের পর বর্ধিত শিরার স্থানে একটু ক্যাস্টর ওয়েল লাগান। পা থেকে পায়ের পাতা ঘষে হালকা ম্যাসাজ করে দিন। আরাম পাবেন।

* চেরি ব্ল্যাকবেরি জাতীয় খাবার সারা দিন খেতে থাকুন।চেরি পায়ের যণ্ত্রণা উপষমে সাহায্য করে।

* আপনার খাদ্য তালিকায় কম ফ্যাট কার্বোহাইড্রেট যুক্ত মাছের পরিমাণ অনেকটা বাড়িয়ে দিন।এতে আপনার শিরার যণ্ত্রণা কমবে।

* আদা, পেঁয়াজ, রসুন ও আনারস আপনার খাবারের মধ্যে বেশি মাত্রায় রাখুন।এই উপাদানগুলো আপনার বর্ধিত শিরার ব্যথা কমায়।

* ব্যায়াম যদিও হয়ত আপনার জন্য যণ্ত্রণাদায়ক, তারপরও প্রতিদিন করার চেষ্টা করুন। হাঁটা, সাঁতার কাটা ও সাইকেল চালানো রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের ওজন নিয়ণ্ত্রণে রাখে।

* খুব আঁটসাঁট জামাকাপড় না পড়াই ভাল। এতে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়।

* ভারী ওজন তোলা থেকে দূরে থাকুন, যাতে পায়ের ওপর অকারণ চাপ না পড়ে।যদি পায়ে আপনার খুব যণ্ত্রণা হয়, মাঝে মধ্যে একটু লোশান লাগান। এতে শিরাগুলো শান্ত হয়।

* সারা দিন টেবিলে ঠায় বসে কাজ করবেন না। মাঝে মধ্যে অবশ্যই বিশ্রাম নিন যেমন: একটু হাঁটুন ও হাত পায়ের পেশী একটু জিরিয়ে নিন। এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।

* কাজের প্রয়োজনে যদি আপনাকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা অবধি দাঁড়াতে হয়, তাহলে মাঝে মধ্যে পায়ে বিশ্রাম দিন।সবচেয়ে ভাল সমস্যার সমাধান ঘরোয়া পদ্ধতিতে হল মাঝে মাঝে এক পা থেকে আরেক পায়ে শরীরের ভারটা বদলান।

* এক বালতি ঠাণ্ডা পানিতে পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে রক্ত সঞ্চালন সহজ ও স্বাভাবিক হবে।

* শিরার ফুলে থাকা থেকে আরাম পেতে উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাবার খুব উপকারি।এতে শরীরে পুষ্টি যোগাবে ও পায়ের যণ্ত্রণা অনেকটাই কমবে।

* ফুলে থাকা শিরার ওপর চুলকোনো এড়ান। এই অভ্যেসটা ভেতরে ক্ষত (আলসারেশন) ও রক্তক্ষরণে মদত দেয় ও অন্য আরও অনেক সমস্যা ডেকে আনে। চুলকানো জায়গায় নিম পাতা ঘষে দিন – এতে সমস্যা কিছুটা কমবে।