মেইন ম্যেনু

ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের উপকারিতা

ফেরেশতারা আল্লাহ তাআলার অপার সৃষ্টি। ফেরেশতাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টির স্বীকৃতি দান ও সৃষ্টিতে আল্লাহ তাআলাকে এক এবং একক সত্তা হিসেবে বিশ্বাসের নামান্তর। ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনে রয়েছে মুমিন বান্দার জন্য অনেক উপকার। কেননা ফেরেশতারা বান্দার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। জান্নাত প্রদানের জন্য দোয়া কামনা করে।

প্রথমত
আল্লাহর মহত্ব, মর্যাদা, শক্তি ও হিকমত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ। তিনি ফেরেশতাগণকে মানুষের উপকারে এবং তার প্রশংসা জ্ঞাপনের জন্য সৃষ্টি করেছেন। যাঁদের প্রকৃত সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না।

ফেরেশতাদের মধ্যে কাউকে তিনি আরশ বহনকারী বানিয়েছেন। যাদের কান ও ঘাড়ের মধ্যেকার দূরুত্ব হলো ৭০০ শত বছরের পথ। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, তাহলে আরশ কত বড়?

আরশের ওপরে যিনি আছেন তিনি কত বড় মহান? সেই মহান আল্লাহর সব পবিত্রতা। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁরই জন্যে আসমান-জমিনের সব অহংকার। তিনিই পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (সুরা জাসিয়াহ : আয়াত ৩৭)

দ্বিতীয়ত
বনি আদমের ব্যাপারে আল্লাহর গুরুত্বের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা তাদের হেফাজত, সাহায্য ও আমল লিখে রাখার জন্য ফেরেশতাদেরকে নিযুক্ত করেছেন।

তৃতীয়ত
ফেরেশতাগণকে ভালোবাসা। কারণ, তাঁরা সব সময় আল্লাহর বান্দাদের খেদমতে নিয়োজিত আছেন এবং বিশেষ করে মুমিনদের জন্য দোয়া করেন ও আল্লাহর নিকট তাদের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা চান। আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন-

‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চার পাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে- হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যপ্ত।

অতএব, যারা তাওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।

হে আমাদের পালনকর্তা! আর তাদেরকে প্রবেশ করান চিরস্তায়ী বসবাসের স্থান জান্নাতে। যার ওয়াদা আপনি দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা মুমিন : আয়াত ৭-৯)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাফিক দান করুন। আমাদেরকে জন্য তাদের ক্ষমা প্রার্থনার সৌভাগ্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।