মেইন ম্যেনু

ফের বিশ্বের শীর্ষ এনজিও ব্র্যাক

জেনেভাভিত্তিক গণমাধ্যম সংগঠন ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’এর পর্যালোচনায় টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বের এক নম্বর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ব্র্যাক। সেরা পাঁচশ উন্নয়ন সংস্থার তালিকা তৈরি করে তাদের এক বছরের কর্মকাণ্ড বিষয়ে নিরীক্ষা চালানোর পর এ ঘোষণা দেয়া হয়।

সোমবার ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’এর ওয়েবসাইটে (www.ngoadvisor.net) এই ঘোষণা দেয়া হয়। ২০০৯ সাল থেকে এই র্যা ঙ্কিং প্রথা চালু হয়। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে প্রভাব, নতুন ধারা প্রবর্তন এবং পরিচালন ব্যবস্থার অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে ব্র্যাক এই সম্মান পেয়েছে।

এ বছরের দ্বিতীয় সেরা এনজিও ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এবং তৃতীয় হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক-উদ্যোক্তা সংগঠন দি স্কল ফাউন্ডেশন । এছাড়া অক্সফাম রয়েছে ৭ম স্থানে এবং ১১স্থান অর্জন করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন ।

এই স্বীকৃতি অর্জনের পর ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘ব্র্যাকের এই প্রথম স্থান বজায় রাখা নিঃসন্দেহে মর্যাদার ব্যাপার। বিশ্বজুড়ে আমাদের লক্ষাধিক কর্মী প্রতিদিন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে। দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে করণীয় খুঁজে বের করা এবং তা প্রয়োগ করায় আমরা এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জন ক্রিস্টোফ নথিয়াস বলেন, ‘২০১৭ সালে আবারও ব্র্যাক বিশ্বসেরা হলো তার উদ্ভাবন, প্রভাব এবং পরিচালনা পদ্ধতির অনন্য ভূমিকার জন্য। বিশ্বব্যাপী একের পর এক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবাদানে ব্র্যাক এখন নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী’।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে এই র্যা ঙ্কিং করত ‘দি গ্লোবাল জার্নাল’। ওই বছরও ব্র্যাক শীর্ষস্থান লাভ করে। তারপর ২০১৬ সালে এই র্যা ঙ্কিং দেয়া শুরু করে ‘এনজিও অ্যাডভাইজার’। এই সংগঠনটি স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চায় দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে। এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জন ক্রিস্টোফ নথিয়াস ‘দি গ্লোবাল জার্নাল’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১১টি দেশে দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর ব্র্যাক আজ তার ব্যয়সাশ্রয়ী উন্নয়নমডেল, অতি দরিদ্রদের উন্নয়নে প্রমাণিত সমাধানকৌশল, দুর্যোগপরবর্তী সেবাদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এর সুবিধাভোগী।