মেইন ম্যেনু

ফের হিলারির কাছে ধাক্কা খেলেন বিতর্কিত ট্রাম্প

দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ নেভাডায় হিলারি ক্লিন্টন৷ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক পর্বে অর্থাৎ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের পদপ্রার্থী বাছাই পর্বে আজ রবিবার দিনটা গেল ফেভারিটদের পক্ষেই৷ এখনো পর্যন্ত একটিও প্রাথমিক পর্বে না হারলেও ক্রমশই ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তা ভাবিয়ে তুলছিল হিলারির দলকে৷ নেভাডা ককাসে তার এ দিনের জয় তাদের অনেকটাই স্বস্তি দেবে৷ খুব বেশি ব্যবধানে জেতেননি হিলারি, তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে সেটা তার এখন আর দরকারও নেই৷ টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এত প্রতিবেদনে এ খবর জানা যায়।

আসন্ন দক্ষিণ ক্যারোলিনায় আফ্রিকান-আমেরিকান গোষ্ঠীর একটা বড় অংশের সমর্থন তার সঙ্গে নিশ্চিত ভাবেই আছে৷ ১ মার্চের পর থেকে যখন আমেরিকার দক্ষিণাংশে প্রাথমিক পর্বের ভোটগ্রহণ শুরু হবে, তার সুবিধা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা৷ স্যান্ডার্সের সমর্থকরা জানপ্রাণ দিয়ে লড়ছেন, তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, হিলারির সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নটাও ভালো ভাবেই তুলে দিতে পেরেছেন স্যান্ডার্স৷

কিন্তু নেভাডা দেখাচ্ছে, বয়স্ক, নরমপন্থী ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে স্যান্ডার্সের উত্তেজক প্রচারের তুলনায় হিলারির ‘কাজের মানুষ’ ভাবমূর্তিই বেশি নম্বর পেয়েছে৷ ১ মার্চ ভেরমন্ট, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা এবং ওকলাহোমা প্রদেশের ভোটগ্রহণে স্যান্ডার্সের জেতার সম্ভাবনা এখনো জোরদার৷ কিন্তু এর পর থেকে তুলনায় রক্ষণশীল দক্ষিণাংশে ভোটগ্রহণ শুরু হবে, এবং সেখানকার ভোটারদের মধ্যে নেভাডার ফলাফলের ছাপ থাকার সম্ভাবনাই বেশি৷

কাজেই স্যান্ডার্সের তুমুল জনমোহিনী ভাষণ ও অভিনব অর্থনৈতিক ধারণা সেখানে গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম৷ অন্য দিকে, প্রথম ককাসে পিছিয়ে পড়েও পর পর দুই প্রাইমারিতে জিতে ট্রাম্প নিজের অবস্থান অনেকটাই মজবুত করতে পেরেছেন৷ তার ‘জনপ্রিয়’ ভাষণ ভোটে রূপান্তরিত হবে না এমন সমালোচনা দীর্ঘ দিন ধরেই উঠেছে৷ দক্ষিণ ক্যারোলিনার এই জয় তাকেও স্বস্তি দেবে৷ তার সঙ্গে আছে ইতিহাসও৷

কোনো রিপাবলিক্যান প্রার্থী নিউ হ্যাম্পশায়ার ও দক্ষিণ ক্যারোলিনায় জেতার পরেও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী নির্বাচিত হননি, এমন নজির সাম্প্রতিক অতীতে নেই৷ তবে তৃতীয় প্রাইমারিতে মুখ পুড়েছে আর এক রিপাবলিক্যানের৷ দক্ষিণ ক্যারোলিনায় শোচনীয় ফলের পর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের ভাই জেব বুশ এ দিন ঘোষণা করেছেন, প্রেসিডেন্ট দৌড় থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি৷ দ্বিতীয় স্থানে জন্য হাড্ডহাড্ডি লড়াই চালাচ্ছেন টেড ক্রুজ ও মার্কো রুবিও৷

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে দুই বিপরীত ট্রেন্ড৷ ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে যেখানে উত্তেজক ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভাষণের বদলে ক্রমশই সমর্থনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে তুলনায় ‘নিষ্প্রভ’ প্রচার, রিপাবলিক্যানদের ক্ষেত্রে ক্রমশ বেশি করে ভোটারদের মান্যতা পাচ্ছে ঠিক সেই প্রবণতাই৷ ২০১৬ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আক্ষরিক অর্থেই হয়তো দুই দলে ভাগ করে দিচ্ছে মার্কিনদের৷