মেইন ম্যেনু

ফেলানী হত্যা: ফুরিয়ে যায়নি ন্যায়বিচারের সুযোগ

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে কিশোরী ফেলানী হত্যার রায়কে চ্যালেঞ্জ করার জন্য ভারতের মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)-এর সঙ্গে একযোগে কাজ করছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) । আসক এরই মধ্যে মাসুমকে সহায়তার জন্য কাজ শুরু করেছে। ভারতের সুপ্রিমকোর্টে আপিলের জন্য দু’একদিনের মধ্যে ফেলানীর বাবার লিখিত সম্মতি পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আসকের পরিচালক নূর খান।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা মামলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষকে দ্বিতীয় দফায় নির্দোষ ঘোষণার রায়কে ভারতের আদালতে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুম।

মাসুম-এর প্রধান করীটি রায় জানান, তাদের দেশের সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট করে বলেছে, কোথাও কোনো অন্যায়-অবিচার হলে যে কেউ প্রতিবাদ করে আদালতে আসতে পারে। আগেকার ধারণা পাল্টে দিয়েছে সেখানকার সর্বোচ্চ আদালত। তিনি জানান, ‘বিএসএফের নিজস্ব আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা বেশ কিছু আইনি পয়েন্ট খুঁজে পেয়েছি, যেগুলো ভারতের সংবিধান আর ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।’

আসকের পরিচালক নূর খান জানান, মাসুম-যাতে এই মামলা লড়তে পারে সেজন্য বাংলাদেশ থেকে সব ধরণের সহায়তা দিচ্ছেন তারা। তিনি জানান, ‘এরইমধ্যে আমরা ফেলানীর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মামলা লড়তে প্রস্তুত। ফেলানীর বাবার কাছ থেকে লিখিত সম্মতি আনতে সোমবার আসকের একটি টিম কুড়িগ্রাম যাচ্ছে। তারা মামলার পর্যন্ত সব কাগজ পত্রও সংগ্রহ করবেন।’

নূর খান দাবি করেন, মাসুম সঠিক আইনী পথেই এগোচ্ছে। ‘ভারতের সংবিধানে জীবন রক্ষার অধিকার স্বীকৃত। আর ফেলানী হত্যার ঘটনাস্থল এবং দায়ী ব্যক্তি ভারতের। তাই ভারতের আইন অনুযায়ী এর সুবিচারের পথ খুঁজতে হবে।’ তিনি মনে করেন, ভারতের সংবিধান সেই সুবিচারের পথ খোলা রেখেছে। বিশেষ আদালতের রায়কে সেখানকার উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ আছে। ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেকের জীবনের অধিকার রয়েছে। শুধু ভারতের নাগরিক নয়, দেশের মাটিতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির এই সুযোগ আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নূর খান বলেন, ‘তবে এই আইনী লড়াই চালাতে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের মধ্যে একটি ঐক্যমত হওয়া প্রয়োজন। কারণ আইনী লড়াই চালাতে ফেলানীর বাবাকে ভারত যেতে হবে। এজন্য তাঁর ভিসাসহ ট্রাভেল ডকুমেন্টের প্রয়োজন পড়বে। লাগবে আর্থিক সহায়তা। আমরা ফেলানীর পরিবারের সঙ্গে আছি। ভারতে আছে মাসুম। এখন প্রয়োজন সরকারের সহযোগিতা।’ তিনি আরো বলেন, ‘মামলার কাগজপত্র সংগ্রহ করতেও সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে বাবার সঙ্গে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে দেশে ফিরছিল কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানী। তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল দেশে। দালালদের সাহায্যে বেড়ার গায়ে মই লাগিয়ে ফেলানি যখন সীমানা পার হচ্ছিল , সেই সময়ে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তাঁর গুলি চালান। নিহত ফেলানীর লাশ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে দীর্ঘক্ষণ। এরপর বিএসএফ নিজেই তার বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। আইন অনুযায়ী বিএসএফ তাদের নিজের আদালতেই বিচার করে ২০১৩ সালে অমিয়কে নির্দোষ বলে রায় দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই রায়ই বহাল রেখে অমিয়কে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।



« (পূর্বের সংবাদ)